১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:১১

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জলপাইর চাষ বেড়েছে

 

দেবীগঞ্জ(পঞ্চগড়)  প্রতিনিধি : জলপাই হচ্ছে একটি সিজিওনাল ভিটামিন সি ফল। জলপাই হারভেস্টিং বা জলপাই পাড়িয়ে বিক্রি করার মৌসুম শুরু হয়েছে। জলপাই এ জনপদের মানুষদের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ হওয়ার এক নতুন মাত্রা যোগ করে দিয়েছে ।
দেবীগঞ্জে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ লাক্ষ টাকার জলপাই বিক্রি হচ্ছে। মাসে হচ্ছে ১ কোটি টাকার ওপরে।

প্রতি কেজি জলপাই প্রকারভেদে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেবীগঞ্জ থেকে প্রতিদিন ৫শ মন বা তারও বেশি জলপাই কেনা হয়ে থাকে। কমপক্ষ্যে ১০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই কিনে বাইরের থেকে আসা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন। প্রতিদিন ২টি করে ট্রাক জলপাই লোড করে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ২০ টাকা কেজি হিসেবে মন হয় ৮শ টাকা , ৫শ মনের দাম হচ্ছে ৪ লাক্ষ টাকা। এভাবে জলপাই বেচা-কেনা চলবে প্রায় ৩ মাস যাবত। সে অনুযায়ী দেবীগঞ্জের বাজার থেকে জলপাই বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটির টাকার কাছাকাছি।

কার্তিকের প্রথম থেকে জলপাই বাজারে আসা শুরু করেছে, চলবে পুরো পৌষ মাস পর্যন্ত। তবে মাঝখানে এর আমদানি আরও বাড়বে, এমন ধারনা ব্যসায়ীদের। কেনা-বেচার এ ঘনত্বে দেবীগঞ্জে নতুন করে শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উল্টরাঞ্চলের বৃহৎ জলপাই কেনা-বেচার আড়ৎ হচ্ছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে। প্রতিদিন দেবীগঞ্জে জলপাইর বাজার বসে।
জলপাই খেতে টক লাগতো, অনেকে খেতে চাইতো না । ফলে এ ফলটির এক সময় খুব কদর ছিল না এ অঞ্চলের মানুষদের নিকট।

ফলশ্রুতিতে লোকজন তেমনভাবে জলপাই লাগাতো না। সময়ের ক্রমাগত পরিবর্তন অনেক কিছুর চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি জলপাইরও চাহিদা বেড়েছে অপেক্ষাকৃত বেশি। এ অঞ্চলের জলপাই এখন যাচ্ছে ঢাকা সহ দেশের দক্ষিনাঞ্চলে। জলপাই কিনতে আসা ব্যবসায়ী রহিদুল, হেলালের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিনাঞ্চলে জলপাইর প্রচুর চাহিদা। এর একটি হচ্ছে ওদিকে জলপাই হয় না, অপরদিকে ওই অঞ্চলের লোকজন ডালে জলপাই খায়, এমনি করেও খায়,করে আচার।


পঞ্চগড় জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল হক ইত্তেফাককে জানান, জলপাই ভিটামিন সি ফল, উচু জমিতে জলপাই চাষ ভাল হয়,আর এখানকার জমি অপেক্ষাকৃত উচু যা জলপাই ফলনের জন্য বেশ সহায়ক । তার মতে . দেবীগঞ্জে রয়েছে জলপাইর ছোট-বড় অসংখ্য বাগান। এছাড়া অধিকাংশ বাড়িতে রয়েছে ২/৪টি করে জলপাইর গাছ। এছাড়া প্রাণ ও স্কয়ার কোম্পানী আচারের জন্য প্রচুর জলপাই কেনে, জলপাই থেকে হয় তেল , জলপাইর নানামূখী চাহিদা থাকায় এর প্রয়োজনীয়তা এখন সামনের দিকে এগুচ্ছে। ফলে পঞ্চগড় জেলায় দিন দিন জলপাইর চাহিদা বৃদ্ধি সহ এ জেলার লোকজন ব্যপকহারে জলপাইর বাগান করার আগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগও কৃষকদের আগ্রহকে দিচ্ছে বেশি করে অনুপ্রেরনা। পঞ্চগড়ে জলপাই বাণিজ্যিক হিসেবে আর্বিভ’ত হতে চলেছে। জলপাইর গাছ লাগাতে পারলেই হয়। খুব বেশি পরিচর্চার প্রযোজন হয় না। দিতে হয় না সার ও সেচ। ফলে এটি একটি লাভজনক ফল বাগান। ফলনও খারাব না। কমপক্ষ্যে একটি গাছে এক থেকে দেড় মন জলপাই ধরে। জলপাইর নার্সারী করে সাবুল এখন বেশ স্বাবলম্বী। জলপাইর ক্রমবর্ধমান চাহিদা ভবিষ্যতে এ জেলার অর্থনীতিতে আরও ব্যাপক গতি সঞ্চার করবে মর্মে আশাবাদ এ কৃষি কর্মকর্তার।

কিউএনবি /রিয়াদ/২৫শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং/ বিকাল ৫:১৮