১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৪১

বকশীগঞ্জ সাংবাদিক নিধনের থানা

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর, জামালপুর : জামালপুরের সীমান্তঘেষা থানা বকশীগঞ্জ। এ থানায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাংবাদিক নিধন কার্যক্রম। গত এক বছরে ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অন্তত ২টি মিথ্যা মামলা হয়েছে। নিধনযজ্ঞ থেকে রক্ষা পাননি হৃদরোগে আক্রান্ত সাংবাদিকের ষাটোর্ধ বয়সী বাবাও।

বকশীগঞ্জ থানা সুত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাতে ওসি আসলাম হোসেন মোবাইলে থানায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে বাংলানিউজের জেলা প্রতিনিধি গোলাম রাব্বানী নাদিম ও স্থানীয় দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক মতিনুর রহমান মতিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। যার নং ২৪, তাং ২৬/০৮/১৭। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে সন্ত্রাস দমন আইনের ২০০৯, (সংশোধিত) ২০১৩’র ১০ ধারায় মামলাটি করা হয়।

এ ঘটনার ঠিক ২১ দিনের মাথায় ২১ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত এক সাংবাদিকের বাবা ষাটোর্ধ বয়সী আব্দুল করিমের বিরুদ্ধেও পুলিশ বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করে। যার নং ২০, তাং ২১/৯/২০১৭ইং। মামলার বাদী বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন দাশ। ১২ জুলাই সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন চার্জশীট দাখিল করে থানার এসআই হান্নান।

ভিত্তিহীন মামলার চার্জশীট প্রসঙ্গে এসআই হান্নান জানান, ‘মামলার বাদী পুলিশের কর্মকর্তা। ঘটনা মিথ্যা হলেও চুড়ান্ত ও সঠিক প্রতিবেদন দিলে মামলার বাদির (পুলিশ কর্মকর্তার) চাকুরীতে সমস্যা হতে পারে। তাই দ্রুত চার্জশীট দেওয়া হয়েছে।’ ঘটনার সত্যতা সর্ম্পকে তিনি জানান, ‘সত্য-মিথ্যা যাই হোক; উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, ‘মামলার তদন্তকারী অফিসারই সব। তদন্তকারী অফিসার যা লিখেছেন; সেখানে কথা বলার সুযোগ নেই।’ ঘটনার সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আসলাম হোসেন পাশ কাটিয়ে যান।

এদিকে ১২ জুলাই ৫৭ ধারায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে (আইসিটি) মামলা হয় বকশীগঞ্জে। যার নং ১১, তাং ১২/৬/২০১৭ইং। মামলার বিবাদীরা হলেন ঢাকা প্রতিদিনের সম্পাদক মঞ্জুরুল বারী নয়ন, ওই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এ কে ফেরদৌস ও উপজেলা প্রতিনিধি এইচ এম মোছা আলী। ওই মামলায় উপজেলা প্রতিনিধি এইচ এম মুছা আলী দীর্ঘ চার মাসেরও অধিক সময় জেল হাজত বাস করেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যা মামলা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামালপুর প্রেসক্লাব ও বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের কর্মকর্তারা।

বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ জানান, ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মেনে নেওয়া যায় না।’জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিক নির্যাতন গণমাধ্যমের উপর হামলার সামিল।’

কিউএনবি/রেশমা/২৫শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং/সকাল ১১:৩৮