২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২২

বগুড়ায় বেগুন চাষে কৃষকের ভাগ্যবদল

 

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া : বগুড়ার নন্দীগ্রামে কৃৃষকের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। সবজি চাষে শতশত কৃষকের ভাগ্য বদল হচ্ছে। এবছর কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় ব্যাপক সফলতা এনেছে। কৃষকেরা ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। সবজি চাষে খরচ খুবই কম। সারের তেমন প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃৃষকেরা সবজি চাষে বেশি বিনিয়োগ করে থাকেন। নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিপুল পরিমাণ সবজি উৎপাদিত হয়। এলাকার কৃষকদের ভাগ্যবদলের জন্য উপজেলা কৃৃষি বিভাগ থেকে প্রযুক্তিগত সকল প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। এছাড়া কৃষি অফিসের দিকনির্দেশনায় রোগবালাই প্রতিরোধে এখানকার কৃৃষকেরা বেশ সচেতন। এ কারণে ফলনও হচ্ছে ভালো।


সবজি চাষে ভাগ্য বদল হওয়া উপজেলার কাথম বেড়াগাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন অন্যের জমি বছর পত্তনি নিয়ে বেগুন, মরিচসহ দীর্ঘদিন ধরেই সবজি চাষ করে আসছেন। এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ছাপা জাতের বেগুন চাষ করছেন জানিয়ে সফল কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, এ চাষে শ্রমিক মজুরিসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এপর্যন্ত বেগুন বিক্রয় করে খরচের টাকা উঠেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ফলন আরও হবে। মঙ্গলবার দুপুরে কৃষক আব্দুল মতিনের সবজি ক্ষেতসহ উপজেলার বিভিন্ন সবজি ক্ষেত পরিদর্শনে যান কৃষি অফিসার মুশিদুল হকসহ কর্মকর্তারা। এসময় সবজি চাষে কৃষকদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করে।
উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বেগুন চাষ করে বদলে গেছে শতশত কৃৃষকের ভাগ্যের চাকা। ধান চাষের উপর নির্ভরশীল কৃৃষি জমিতে বেগুন চাষ এনে দিয়েছে নতুন গতি। কৃষকদের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূূর্ণ অবদান রেখে চলেছে কৃষির এই সফল বিবর্তন। এউপজেলায় উৎপাদিত বেগুন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নœ অঞ্চলে রপ্তানী হচ্ছে। কৃষকেরা যুগপৎ এই ফসল আবাদ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে।


উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মুশিদুল হক জানান, এবার উপজেলার ৪০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। ধান আবাদের চেয়ে এচাষ অনেক লাভজনক। প্রত্যেক বছর সবজি চাষে ফলন ও দ্বিগুন লাভ পেয়ে কৃষকেরা সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রচেষ্টায় এনএটিপি প্রকল্পসহ বিভিন্ন সেবা কৃষকদের মাঝে পৌছে দেয়া হয়েছে।


এপ্রসঙ্গে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজাউল করিম তানসেন এমপি বলেন, নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলার কৃষকেরা ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। কৃষি সেবা কৃষকদের হাতের নাগালে। সারাদেশের ২৩৫ টি কৃষক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় সবজি চাষে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন শেখ হাসিনার সরকার।

১৪ দলের সরকার কৃষি ও কৃষক বান্ধব। বৈরী পরিবেশে অভিযোজনে ধানের জাত উদ্ভাবন ও সবজি বীজ কৃষকদের কাছে পৌছে দেয়াসহ এনএটিপি প্রকল্প চালু করায় ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন সরকার।

কিউএনবি /রিয়াদ/২৪শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:১২