১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৫২

দার্জিলিং নয় তেঁতুলিয়া থেকেই দেখা যাচ্ছে এমন কাঞ্চনজঙ্ঘা

 

কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে সারাবিশ্ব থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভারতের টাইগার হিলে ছুটে যান। ভোরে উষার সময় কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর রোদ পড়ে সেই রোদ যেন ঠিকরে পড়ে পর্যটকের চোখে।

দার্জিলিং-এর টাইগার হিলই কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখার সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। কিন্তু যদি পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই সেই দৃশ্য দেখতে পারেন তবে কেমন হয়? হ্যাঁ এমন সুযোগই রয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরের সর্বশেষ উপজেলা তেঁতুলিয়া থেকেই দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বেশভালোভাবে  দেখা যাচ্ছে বলে পর্যটকেরা জানাচ্ছেন। আবহাওয়ার কারণে শীতকালে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। আবহাওয়া ভালো হলে দেখা যেত। কিন্তু এই অক্টোবরে বিভিন্ন ট্রাভেলার্স গ্রুপে বহুজনের পোস্ট দেখা গিয়েছে যারা কাঞ্চনজঙ্ঘা বেশ ভালোভাবে অবলোকন করে এসেছেন।

ছবিতে তেঁতুলিয়ার ধানক্ষেত আর কাঞ্চনজঙ্ঘার মাঝখানে যে কালচে পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে…ওই পাহাড়ের এপারের ঢালে শিলিগুড়ি শহর। রাতে তেঁতুলিয়া থেকে শিলিগুড়ির আলো দেখা যায় স্পষ্ট।

ওই পাহাড়েরই অপর ঢালে দার্জিলিং। দার্জিলিং-এ যারা বেড়াতে যান…তাঁদের কাছে প্রধান আকর্ষণ বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার উপর সূর্যোদয়ের সময় দিনের প্রথম সূর্যকিরণের ঝিকিমিকি!

সম্প্রতি তেঁতুলিয়া ঘুরে আসা সাদাব মোস্তফা জানাচ্ছেন, ‘সকালে ৫.৩০ এ উঠলাম! উঠেই দেখি কেবল হালকা আলো দেখা যাচ্ছে! কিন্তু আকাশে মেঘ আছে। ভাবলাম আর মনে হয় পাহাড় দেখা যাবে না! কিন্তু ৬.১০ এ কাঞ্চনজঙ্ঘা আবার উকি দিচ্ছে! কিছুক্ষণ পর মেঘ ঠেলে সূর্য একটু বের হওয়ার সাথে সাথেই কাঞ্চনজঙ্ঘা আবার লাল হয়ে গেল! এবার শান্তি মতো ছবি তুললাম। ৭.৩০ এর মধ্যেই আবার সব নেই হয়ে গেল! পাহাড় এর কোনও চিহ্নই নেই! আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হলো যে দুই দিন এ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পারলাম। ‘

টাইগার হিলে উষার সময় ভোরে দেখা গেলেও তেঁতুলিয়া থেকে এত ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়না। সকাল আট-টা থেকে সূর্যকিরণ যখন তেজ হতে থাকে তখন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকাল দশটা পর্যন্ত বেশ ভাল দেখা যায়। তারপর আস্তে আস্তে আস্তে ঝাপসা হতে থাকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শেষ বিকেলে সূর্যকিরণ আবার যখন তির্যক হয়ে পড়ে বরফের পাহাড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

অতি সম্প্রতি সবচেয়ে ভালো ভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ধারণ করতে পেরেছেন পর্যটক ফিরোজ আল সাবাহ। তার ক্যামেরায় সম্ভব সুন্দর ছবি তিনি ধারণ করেছেন যা টাইগার হিল থেকেও সম্ভব হয় না। অভিজ্ঞতাকে তিনি এভাবেই বলছেন, ‘ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের এক চায়ের দোকানে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছিলাম চা শেষ করে আবার যখন রাস্তায় উঠলাম তখন কাঞ্চনজঙ্ঘা এভাবেই ধরা দেয় আমাদের চোখে ,ক্যামেরা তেও অবশ্যই । চা বাগানের পাশে ঘন বনের উপরে দার্জিলিং এর পাহাড়সারি তার উপরে মেঘ! মেঘের উপরে সগর্বে দাড়িয়ে আছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। সকালে ঝলমলে রোদে ঝিক মিক করছে হিমালয়ের তৃতীয় পর্বত শৃঙ্গটি।

তিনি বলেন, আমরা ৫ দিন তেতুলিয়ায় ছিলাম দুই কিস্তিতে প্রথম তিন দিন দেখেছি তাও এত স্পষ্ট যে দার্জিলিং শহরের লাইটসহ দেখা যাচ্ছিল, পাহাড়ের চুড়োয় বেইজ স্টেশন সহ! তিন তিনে ছত্রিশ গিগাবাইট ছবি তুলেছি। তারপর বাসায় ফিরে তারপর দিন মানে ২৩ তারিখ গিয়ে আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাই নাই! যেন কেও ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় দার্জিলিং এর পাহাড় সারির উপর দিয়ে, পাহাড়ে যখন কুয়াশা বেড়ে যায়, মেঘ বেড়ে যায় তখন তা ভেদ করে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না যাওয়াই স্বাভাবিক, এছাড়াও আবহাওয়াগত অনেক কারণ আছে।

যাওয়ার পথ ঢাকা থেকে সরাসরি বাস রয়েছে তেতুলিয়াগামী। কিংবা পঞ্চগড়ে পর্যন্তও যাওয়া যায়। তেতুলিয়া বিভিন্ন চা বাগান রয়েছে। রয়েছে সরকারি বেসরকারি ডাকবাংলো। আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়াই ভালো।

 

কিউএনবি /রিয়াদ/২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৭:১৮