১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪৯

নদীর নাম ঢাকা

 

বঙ্গপোসাগরে নিম্নচাপ, তার ফলাফল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি। আর টানা বৃষ্টিতে আবার হাঁটু জলের নিচে রাজধানীর পথঘাট। প্রায় সব এলাকায়ই কম বেশি বেড়েছে জলাবদ্ধতা। প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও অলিগলিতে জমে আছে পানি। এছাড়া স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে হাঁটু সমান পানি জমেছে। যান চলাচলে ভীষণ বিঘ্ন ঘটছে এর ফলে। যানজটের নগরীতে যা কিনা ভয়ানক এক বিপদের নাম।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সুয়ারেজ বা ড্রেনের মাধ্যমে পানি সরছে না খুব একটা। আর সেই কারণেই রাস্তা ঘাটে জমে আছে পানি। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তা বা অলিগলির ড্রেন মেরামত করার লক্ষ্যে খোঁড়াখুঁড়ির করা হয়েছে বলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে অনেক জায়গাতেই। সবমিলিয়ে ঢাকা শহরের সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বেহালে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাই মজা করে বলছেন ‘ঢাকা একটি নদীর নাম।’

এদিকে শুক্রবার ও শনিবার সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। তবে বেসরকারি চাকরিজীবী বা খেটেখাওয়া মানুষ, যাদের জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে না বের হলেই চলে না, তাদের পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে।

ঝিনাইদহ থেকে রোগী নিয়ে আসা সুরুজ নামে এক যুবক জানান, বৃহস্পতিবার দেড় বছর বয়সী শিশু সন্তানকে ভর্তি করেছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালে। বর্তমানে তার ছেলের জন্য ডাক্তাররা আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে ধানমন্ডি ল্যাব এইডে পাঠিয়েছেন। কিন্তু শিশু হাসপাতাল ও শিশু মেলার সামনে প্রায় এক হাঁটু পানি। তাই অসুস্থ ছেলেটিকে নিয়ে তিনি ভীষণ বিপদে পড়েছেন। কোনো সিএনজি চালকই ওদিকে যেতে চাচ্ছে না। তারা বলছে, ধানমন্ডির ২৭ নম্বর ও জিগাতলা রোডে প্রায় কোমর সমান পানি। ওখানে সিএনজি নিলে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যাবে।

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, সংসদ ভবন, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, ঝিগাতলা ও খিলক্ষেত এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানিতে থইথই করছে। হাঁটু সমান পানি কোমর ছুঁতে শুরু করেছে এর মধ্যেই। গাড়ি, সিএনজি স্কুটার কিছুই চলছে না রাস্তায়। দুই-একটা বাস চললেও এক মিনিটের পথ এখন আধাঘণ্টাও পার হতে পারছে না বাস চালকেরা।

সংসদ ভবনের সামনে কথা হয় কৃষি মার্কেট থেকে ফার্মগেটগামী এক লেগুনা চালকের সাথে। তিনি ঢাকাটাইমসকে জানান, কৃষি মার্কেট থেকে সংসদ ভবনের আগ পর্যন্ত রাস্তায় পানি কম। কিন্তু সংসদ ভবন ও আড়ং মোড়ে প্রচুর পানি জমেছে। পানি জমার কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করলেন আসাদ গেট থেকে আড়ংয়ের সামনে পর্যন্ত রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িকে। মূলত বৃষ্টির পানি এই সব গর্তে জমে রাস্তা ভাসিয়ে দিয়েছে। সকালে লেগুনাভর্তি যাত্রী নিয়ে আড়ংয়ের সামনে পানিতে ডুবে যাওয়ায় গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এতে সকল যাত্রী নেমে গেলেও অনেক কষ্ট করে তাকে লেগুনা ঠেলে রাস্তা থেকে সরাতে হয়েছে।

লেগুনার মতো প্রাইভেট চালকদেরও একই অবস্থা। জিগাতলায় দাঁড়িয়ে কথা হয় সবুজ নামে এক প্রাইভেট চালকের সাথে। তিনি মালিকের মেয়েকে নিয়ে এসেছেন জিগাতলার একটি স্কুলে। কিন্তু বৃষ্টিতে রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে যায়। সিট ও ইঞ্জিনে পানি ঢুকেছে। মালিক ফোন করেছিল প্রাইভেটকারটি এখন সার্ভিসিংয়ে দিতে বলেছেন।

এদিকে রাজধানীর ফার্মগেটের পূর্বরাজার বাজার এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ির নিচতলায় বৃষ্টির পানিতে থইথই করতে দেখা গেছে।

এখানকার স্থানীয় ম্যাসে থাকা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের বসবাস বাড়ির একতলায়। শুক্রবার দুপুর থেকেই তাদের থাকার ঘরে পানি ঢুকছে। বই খাতা, কাপড়-চোপড় নিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন তারা। বৃষ্টির পানি ড্রেন দিয়ে বের হতে না পারায় তাদের এলাকার অলিগতিতে ও বাসা-বাড়িতে ঢুকছে বলে ধারণা করছেন তারা। ফলাফল হিসেবে থাকা খাওয়ার খুবই কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

পান্থপথ সিগন্যালে কথা হয় কর্মের হাটের (এখানে শ্রমিকরা কাজের আশায় থাকেন) কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, বৃষ্টির কারণে কাজ নেই বললেই চলে। বেশির ভাগ মানুষই আজ এখনও কাজের সন্ধান পায়নি।

গাবতলী থেকে সদরঘাটগামী এক বাসচালক জানান, ধানমন্ডির ২৭ নম্বরের রাপা প্লাজার সামনের এই রাস্তা পার হতে সময় লেগেছে চল্লিশ মিনিট।

তার কথার সাথে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, এই সড়কে এতো পানি জমছে যে বাস ছাড়া মাইক্রো বা সিএনজি চলাচল খুবই দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

কিউএনবি /রিয়াদ/২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং /বিকাল ৫:১২