২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৩৮

ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি সংকট

 

দুইদিনের টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে কমে গেছে বাস, হিউম্যান হলার ও সিএনজি অটোরিকশা। বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হলেও গন্তব্যে পৌঁছার জন্য সড়কের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছেন অনেক মানুষ। বৃষ্টির সঙ্গে গাড়ির সংকট দেখা দেয়ায় তা যেন মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে গতকাল শুক্রবার থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে ঝরছে বৃষ্টি। আর এই বৃষ্টির মাঝে মিলছে না গণপরিবহন। সড়কের চিত্র দেখলে মনে হচ্ছে রাজধানীতে যেন অঘোষিত ধর্মঘট চলছে।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর অনেক সড়কের অবস্থা দেখা গেছে ফাঁকা। সরকারি ছুটির দিন হলেও বৃষ্টির কারণে তেমন যানবাহন চোখে পড়েনি বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে। ব্যক্তিগত গাড়ি চললেও তা অন্যদিনের চেয়ে কম দেখা গেছে। যেসব রুটে একের পর এক বাসের দেখা মিলতো সেখানে হাতেগোনা বাস চোখে পড়েছে। ফলে অতি প্রয়োজনে যারা বাসা থেকে বের হয়েছেন তারাও দুর্ভোগে পড়েছেন।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট এলাকায় হঠাৎ হঠাৎ যাত্রীবাহী বাসের দেখা মিলছে। সিএনজি অটোরিকশারও সংখ্যা কম দেখা গেছে।

জানা গেছে, অনেক জায়গায় মূল সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ঠিকমতো চলতে পারছে না। যে কারণে গাড়ি কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার উন্নতি হবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এমন ধারণা করলেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে ধীরে ধীরে যানবাহনের সংখ্যাও কমে যায়।

মিরপুর-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী বিহঙ্গ পরিবহনের চালক ফরিদ আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বেশিরভাগ গাড়ি সকালে মিরপুরের দিকে ছিল। কিন্তু মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া সব তলাইছে। এজন্যই গাড়ি নাই। পানি যত বাড়বে, গাড়িও দেখবেন তত কমবে।’ তিনি বলেন, ‘সোয়া ১০টায় রওনা দিয়ে দুই ঘণ্টায় সদরঘাট আসছি। মিরপুর থেকে কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া পার হতেই বেশি সময় লাগছে। শেওড়াপাড়ার পর আর জ্যাম পাই নাই।’

সদরঘাট থেকে শাহবাগের পরিবাগ পর্যন্ত আসতে গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে গুলিস্তানে শুক্রবারও যানবাহনের চাপ থাকে সেখানে শনিবার দুপুরেও অনেকটা ফাঁকা ছিলো। দুই-একটি যাত্রীবাহী বাসকে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে। পল্টন মোড়, প্রেসক্লাবের সামনের দুই পাশের সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে।

শাহবাগ মোড়ে এসে বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে পুরোপুরি ফাঁকা দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজির ফাঁকে ফাঁকে কিছু বাস চোখে পড়েছে।

শাহবাগ থেকে মিরপুরে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অনেক সময় পর বাস পেলাম। কিন্তু ততক্ষণে ভেজা শেষ।’

এদিকে গাবতলী থেকে ফার্মগেট আসতেও যানবাহনের সংকট দেখা গেছে। বাসের পাশাপাশি সিএনপি অটোরিকশার সংকটের কারণে সকাল থেকেই দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন অফিসগামী মানুষ।

নুসরাত সাদিয়া নামের বেসরকারি চাকরিজীবী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গাবতলী মাজার রোড থেকে ইস্কাটনে আসার জন্য প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা করেও একটি সিএনজি পাইনি। পরে একটা বাসে করে এসেছি। আসতে আসতে দেখলাম রাস্তা মনে হয় শ্মশান। পুরো ফাঁকা।’

 

কিউএনবি /রিয়াদ/২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং / বিকাল ৩:২৯