১৮ই জুন, ২০১৯ ইং | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৫৫

নির্মাণের ২ মাসেই বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত

 

ডেস্কনিউজঃ  কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের ৪৭/৫ নং পেল্ডারের বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। নির্মাণ কাজের দুই মাস শেষ হওয়ার আগেই শুক্রবার দিবাগত রাতে রাবনাবাধ নদীর আস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে এ বেড়িবাঁধটির ৮ টি পয়েন্ট ভেঙ্গে যায়। এছাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের চর ধুলাসরের বেড়িবাঁধের একটি পয়েন্টে ভেঙ্গে চরম ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। গ্রামবাসীসহ জনপ্রতিনিধিরা রাতের জোয়ারে বাকি অংশটুকু বিলীন হওয়ার শংকায় রয়েছেন। এদিকে মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জেয়ায়ারের পানি প্রবেশ করে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় তিন হাজার একর ফসলী জমিসহ ঘর-বাড়ি পনিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও ঘেরের মাছ। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১১ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

বঙ্গোপসারের রামনাদ মোহনা কোলঘেষে অবস্থিত লালুয়া ইউনিয়ন। এলাকার লোকজনের দূর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য পনি উন্নয়ন বোর্ড চলতি অর্থ বছরে জরুরী ভিত্তিতে ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বাঁধটি নির্মান করে। কিন্তু দুই মাসের মাথায় রাবনাবাধ নদীর আস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে এ বাঁধটি ফের বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া, চারিপাড়া, নাওয়াপাড়া, গাজীরখাল, মুন্সিপাড়া, বানাতিপাড়া, ১১নং হাওলা, ধঞ্জুপাড়া, ছোট পাচ নং, বড় পাঁচ নং, চৌধুরীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্ধী এসব গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। রাস্তাঘাট,বসত বাড়ি ও আবাদি জমি পানিতে একাকার হওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পরেছে। একমাত্র ফসল ধান নির্ভরশীল কৃষকরা ফসল হারানোর ভয়ে এখন শংকিত হয়ে পরেছেন। নিজামপুরের বিধ্বস্ত বেড়িবাধঁ দিয়ে পানি প্রবেশ করে মাছের ঘের, পুকুরসহ বাড়িঘর তলিয়ে গেছে।

বানাতী পাড়া গ্রামের ষাটউর্ধে সশিলা বেগম বলেন, বাবারে রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই। নাতি ডারে কোলে লইয়া চকিতে বইয়া রইছি। ঘরের মধ্যে পানি উইড্যা তলাইয়া রইছে। ওই গ্রামের গৃহবধূ রুমা জানায়, সকালে জোয়ারের পানিতে রান্নার চুলা ভাইস্যা গেছে। দুপুরে রান্না হয় নায়। ছেলে মেয়েরা না খেয়ে আছে। বাড়ি থেকে বেড় হওযার কোন উপায় নেই। জোয়ারের পানিতে রাস্তা ঘাট তলিয়ে রয়েছে।

কৃষক বসির গাজী জানান, বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে ক্ষেতের সকল ফসল এখন পানির নিচে। এমন কি বাড়িও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অপর এক কৃষক আবুল বসার জানান, ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এমন কথা জানিয়েছেন ওই গ্রামের আরও অনেক বাসিন্দারা।

লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চোয়ারম্যান মীর তারেকুজ্জামান তারা জানান, রাতে রাবনাবাধ নদীর আস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ৪৭/৫ নং পেল্ডারের বেড়িবাঁধের ৮ টি পয়েন্ট ভেঙে গেছে। নিম্নমানের কাজ করায় দুই মাসের মাথায় বাধঁটি ফের প্লাবিত হল।  

 

কিউএনবি/তানভীর/২০শে অক্টোবর ,২০১৭ ইং/ রাত ৯:০২

 

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial