২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:০৯

কলেজছাত্রীকে বাসে ধর্ষণ, ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিউজ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে আইন কলেজের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী রোববার টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন।

গ্রেফতার হওয়ার বাসের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫)।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মাহবুব আলম সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরিবহনের পাঁচজন মিলে কলেজছাত্রী রুপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার বিষয়টি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডিএনএ প্রতিবেদনে পজিটিভ কিছু আসেনি।

গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে তার মৃতদেহ ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় নারী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন।

গত ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাদের প্রত্যেকেই আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা প্রত্যেকেই এখন টাঙ্গাইল জেলহাজতে আছে।

এদিকে গত ১২ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনের কাছে রুপার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয় এবং তার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান এ তথ্য জানান।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশের পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী জানান, ময়নাতদন্তের সময় সংরক্ষিত রুপার দাঁত ও পরিধেয় বস্ত্র আদালতের অনুমতি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। শনিবার সে প্রতিবেদন আসে।

 

 

 

 

কিউএনবি/খায়রুজ্জামান/১৫ই অক্টোবর ,২০১৭ ইং/রাত ১০:৫৪