১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:১৫

শরীয়তপুরে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স

 

খোরশেদ আলম বাবুল,বিশেষ প্রতিবেদক : অপরাধ প্রবনতা মানুষের রক্তে মিশে গেছে। বিশেষ করে উচ্চ বিত্তবানরা অপরাধের সাথে সবচেয়ে বেশী জড়িত। অপরাধ প্রবনতা থেকে সারারণ মানুষকে দূরে রাখতে সচেতন করতে হবে। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি এক সাথে কার্যক্রম শুরু করলে সহজে এ উদ্দেশ্য সফল হবে। ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ২০৩ নম্বর কক্ষে পুলিশ-ম্যাজেস্ট্রিসি কনফারেন্সে এ কথা বলেন উপস্থিত কর্মকর্তা বৃন্দ।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল হক এর সভাপতিত্বে সভার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কনফারেন্সের কার্যক্রম শুরু হয়। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মো. মুজাহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান সাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হান্নান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুক্তা রাণী, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. আব্দুস সোবাহান, পাবলিক প্রসিকিউটর এড. মির্জা হজরত আলী, শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক এড. সামসুজ্জামান সেকান্দার, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শিব নাথ সাহা, জেল সুপার, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান, ওসি ডিবি সুব্রত সাহা সহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ওসি তদন্তগণ।

এ সময় কনফারেন্সের সভাপতি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল হক পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারন মানুষ যেন থানায় যেতে ভয় না পায় সেই পরিবেশ তৈরী করতে হবে। তাহলে সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, যারা নিন্মবিত্ত মানুষ তাদের ঘরে রোদের আলো ও বৃষ্টির পানি আগে আসে। সে সকল মানুষ জীবীকার তাড়নায় নদীতে মাছ ধরতে নামে। এদের নদীতে নামতে বাধ্য করনে আড়তদার ও দাদনদাররা। জেলেদের পাশাপাশি আড়তদার ও দাদনদারদের চিহ্নিত করতে হবে।

অনেক সময় মেডিকেল অফিসার মামলার সাক্ষি দিতে আসে না। অনেক মামলা মেডিকেল অফিসারের সাক্ষির অভাবে ডিসপোজাল করা যাচ্ছে না। যে সকল মেডিকেল অফিসারগণ সাক্ষি দিতে আসে না তাদের বিরুদ্ধে অর্ডার সীট দেয়া হবে। ডাক্তারগন জখমির মেডিকেল সনদ ও ময়না দতন্তের প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে প্রেরণ করবেন। জখমের সাথে মেডিকেল সনদের দ্বি-মত থাকলে জখমীকে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে উপস্থি করবেন।
এ সময় তিনি পালং মডেল থানার ওসি’র উদ্দেশ্যে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে পালং থানার বিশেষ অবদান রয়েছে। পালং থানা মাদকের চালান ধরতে সক্ষম হয়েছে।সেই সাথে মাদকের ডিলারকেও চিহ্নিত করেছে। এটা ভালো দিক। এতে মাদকের প্রবনতা কমবে।

তবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রনে পুলিশ ও আদালত সহায়তা করে কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন ভুমিকা লক্ষ্য করা যায় না।তিনি আরও বলেন, আমরা জামিন অযোগ্য ধারায় জামিন দেয়ার জন্য আদালতে বসি। আসামীকে জামিন দিলে জেল খানায় চাপ কমে। এমনিতেই জেল খানায় অতিরিক্ত হাজতি আছে। একটা মামলায় একজন আসামীকে গুরুদন্ড দিলে সেই এলাকার মানুষ অপরাধ করতে ভয় পায়। তবে যে সকল আসামীকে হাজতে পাঠানো হয় তাদের মধ্যে কাউকে ছোট করেন আবার কাউকে বড় করে যেন না দেখা হয়।

কিউএনবি/রেশমা/১৪ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং/বিকাল ৪:১৫