১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | রাত ১:১৬
Home / গণমাধ্যম / সাংবাদিক শিমুল হত্যায় মিরুর জামিন মেলেনি

সাংবাদিক শিমুল হত্যায় মিরুর জামিন মেলেনি

শাহজাদপুরের পৌর মেয়র (বরখাস্ত) হালিমুল হক মিরু—ফাইল ছবি

 

ডেস্কনিউজঃসমকালের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর হাইকোর্টে জামিন মেলেনি।

আলাদা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি রাজিক আল-জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রোববার আবেদন দুটি দৈনন্দিন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এর ফলে মেয়র মিরুকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

ওই বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ সমকালকে জানান, তিন দিন শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রোববার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য রেখেছিলেন। আদালত রোববার আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।

এর আগে গত ২৪ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মিরুর জামিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

আদালতে আসামি মিরুর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, শ. ম. রেজাউল করিম এবং আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ, কাজী মো. মাহমুদুল করিম রতন ও শফিকুজ্জামান রানা।

জানা গেছে, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় জামিন সংক্রান্ত আবেদনের ওপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রোববার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। রোববার বিচারক এ মামলায় আসামিকে জামিন প্রদান করবেন না মর্মে অভিমত ব্যক্ত করেন। এ পর্যায়ে উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবী শ. ম. রেজাউল করিম আবেদনটি খারিজ না করে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর মামলাটি তালিকা থেকে বাদ দেন আদালত। তবে অন্য আদালতে ফের জামিন আবেদনটি শুনানি করা যাবে।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, আদালত আসামিকে জামিনে আপত্তি প্রকাশ করায় আইনজীবীকে আবেদনটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে পৌর মেয়রের দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টুর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা বিজয়ের গণ্ডগোল বাধে। এরপর বিজয়কে তুলে নিয়ে মেয়রের বাড়িতে আটকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নিজ দলের একটি পক্ষের সঙ্গে মিরু, মিন্টু, পিন্টু, নাছিরসহ মেয়রের সহযোগীদের সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন, খবর সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিক শিমুল গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকায় আনার পথে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নূরুন্নাহার বাদী হয়ে মেয়র মিরু ও তার সহোদর মিন্টু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা নাছিরসহ জ্ঞাত ১৮ এবং অজ্ঞাত আরও ২২ জনসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর গত ২ মে শিমুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এতে বলা হয়, মেয়র মিরুর গুলিতেই শিমুলের মৃত্যু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে মেয়র মিরুর লাইসেন্স করা শটগান ছাড়াও তার ভাই হাবিবুল হক মিন্টুর অবৈধ পাইপগান ব্যবহার করা হয়। মিরু ও মিন্টু দুজনই ঘটনার দিন শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।  

 

কিউএনবি/বিপুল/৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং/রাত ৯:৪৪

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন
Ads Here