২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৫০
Home / Uncategorized / লালমনিরহাটে মাদ্রাসা প্রধান বিতর্কে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

লালমনিরহাটে মাদ্রাসা প্রধান বিতর্কে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত

 

রবিউল্যাহ আহমেদ,কালীগঞ্জ লালমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন ভুল্লারহাট আশরাফিয়া পাবলিক দাখিল মাদ্রাসার চূড়ান্ত বরখাস্তকৃত সুপারিনটেনডেন্ট অবৈধভাবে নিয়োমিত সহকারী হিসাবে সরকারি টাকার বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।অথচ বৈধ সুপারিনটেনডেন্ট বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত।জানা যায়, মো. সহিদুল ইসলাম (এম.পি.ও কোড নং- ৩৮৮২৭৬) সুপার থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকালাপসহ শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাকরি বিধি লঙ্ঘনের কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে বরখাস্ত করে।

পরে তার বরখাস্তের কাগজপত্র মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আপীল এন্ড আরবিটেশন কমিটির ১৫৮তম বোর্ড সভায় পর্যালোচনা করতঃ সুপার সহিদুল ইসলামের চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। পদ শূন্য হলে কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক আবু নছর মো. আবুল কালাম আজাদকে (এম.পি.ও কোড নং-৩৮৮২৭৪) সুপার হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং যথারীতি নতুন সুপার আবু নছর মো. আবুল কালাম আজাদ সুপার হিসেবে মাদ্রাসায় যোগদান করেন। চূড়ান্ত বরখাস্তকৃত সুপার সাহিদুল তার বরখাস্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। পিটিশন নং-১০,৩৯৬/১১।

আবারও বরখাস্তকৃত সহিদুল ইসলাম মহামান্য আপীল বিভাগে পিটিশন (ঈগচ-৬২৭) দায়ের করলে গত ৫ এপ্রিল আপীল বিভাগ তার পক্ষে কোনরূপ আদেশ না দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করলে সহিদুল ইসলামের চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত পূর্ণতা পায়।

মো. সহিদুল ইসলামের চাকরি না থাকার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বিধি মোতাবেক বৈধ সুপার আ.ন.ম. আবুল কালাম আজাদকে মাদ্রাসা থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে নিজকে মাদ্রাসার সুপার দাবি করে সহকারী শিক্ষকের বেতন গ্রহণ করছেন এবং কর্তৃপক্ষও দিচ্ছে; যা উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও আদালত আবমাননাকর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এদিকে দীর্ঘদিন যাবত মাদ্রাসা প্রধান বিতর্কের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার মেধাবী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চূড়ান্ত বরখাস্তকৃত সুপার সহিদুলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বৈধ বলে দাবি করেন ও বরখাস্তের কথা অস্বীকার করেন। অথচ বরখাস্তের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট করে সহিদুল ইসলাম হেরে যান।

বিধি মোতাবেক নিয়োগকৃত বৈধ সুপার বলেন, আমাকে বিধি মোতাবেক নিয়োগ দিয়েছে। আমি চাকরি করতে এসেছি, অথচ আমাকে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করে অবৈধ সুপারকে বেতন দেয়া হচ্ছে। যা আদালত অবমাননাকর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মাহবুবুজ্জামান বলেন, ‘তিনি ৩ মাস যাবৎ সভাপতি আছেন। এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। মো. সহিদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে হেরে গেছে আমরা জানি না। তার নাকি জজকোর্টে মামলা আছে। প্রশ্ন হল সুপ্রিমকোর্ট থেকে জজকোর্ট বড় হয় কি করে।’ অবৈধ সুপার মামলা করে একটা এবং হেরে যায়। বিষয় হল সহ-সুপারের নাম যেহেতু একই, সেই সুযোগে অবৈধ সুপার ভুল বুঝায় যে তার আরও মামলা আছে।

অবৈধ সুপার সহিদুল ইসলাম জ্ঞাতসারে আইন অমান্য করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে। যার সহযোগিতা করছেন কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এরা সকলেই আইন অমান্য করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন। সচেতন মহলের ধারণা, টাকা আত্মসাৎ করে সহিদুল আর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সভাপতিসহ সকলকে। বর্তমানে অবৈধ সুপারের আর কোন মামলা নাই এবং তার চাকরিও নাই।

এলাকাবাসীর দাবি, মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে বিধি মোতাবেক নিয়োগকৃত ও বৈধ সুপারিনটেনডেন্ট আ.ন.ম. আবু কালাম আজাদকে মাদ্রাসায় ফিরিয়ে এনে তার প্রাপ্য বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হোক এবং চূড়ান্ত বরখাস্তকৃত সুপার মো. সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও জ্ঞাতসারে আইন অমান্য করার অপরাধে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক। তা না মানলে আইনের শাসন ব্যাহত হবে এবং আদালতের প্রতি মানুষ আস্থা হারাতে পারে।

 

কিউএনবি/রেশমা/৮ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং/ বিকাল ৫:০০

↓↓↓ফেসবুক শেয়ার করুন
Ads Here