১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:০৬

৫৪০ লিটার রাসায়নিকসহ নারী আটক

 

শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫৪০ লিটার তরল রাসায়নিক জব্দ করেছে পুলিশ। বিস্ফোরক তৈরির জন্য ওই রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে চন্দ্রকোনা বাজারে মিনারা বেগম নামের এক নারীর ভাড়া দেওয়া দোকানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই রাসায়নিক জব্দ করে। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষজ্ঞরা ওই রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মিনারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গোৎসব চলাকালে শেরপুর শহরের নয়আনী বাজারে কালীমন্দিরসহ চারটি মন্দিরে জঙ্গিরা নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করে বলে জানতে পারে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এতে ব্যর্থ হয় জঙ্গিদের পরিকল্পনা। এরপর থেকেই পুলিশ বিভিন্নভাবে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের তৎপরতা অনুসন্ধান করতে থাকে।


এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রাফকুল হাসান গনির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চন্দ্রকোনা বাজারে মিনারা বেগমের ভাড়া দেওয়া দোকানে অভিযান চালান। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে ১৮টি ড্রামে ভর্তি ৫৪০ লিটার তরল রাসায়নিক জব্দ করে এবং মিনারা বেগমকে আটক করে। জব্দ করা ওই রাসায়নিক চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে সিআইডির সাত সদস্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল ওই রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন।


পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনারা বেগম জানিয়েছেন, তিনি ওই দোকান ঘরটি নকলা উপজেলার চরমধুয়া গ্রামের ফয়জুদ্দিনের কাছে ভাড়া দেন। ফয়জুদ্দিন আবার একই উপজেলার হুজুরিকান্দা গ্রামের ওষুধ ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের কাছে ঘরটি ভাড়া দেন। এ ঘটনার পর থেকে ফয়জুদ্দিন ও আবুল কাশেম পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের আটকের চেষ্টা করছে। বর্তমানে ময়মনসিংহ থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্স (পিবিআই) ও র‌্যাব-১৪-এর (জামালপুর-শেরপুর) অধিনায়ক হায়েতুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে দুটি পৃথক দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।


শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) রফিকুল হাসান গনি বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৮টি ড্রাম ভর্তি ৫৪০ লিটার তরল রাসায়নিক জব্দ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক তৈরি করতে এই রাসায়নিক মজুত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আটকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

কিউ এন বি /রিয়াদ /৬ই অক্টোবর, ২০১৭ ইং/ রাত ৯:০৬