২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:৫৬

নালিতাবাড়ীতে পুলিশী নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনের বিশ্বজিৎ চন্দ্র দে (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই যুবকের লাশ নিয়ে ২ অক্টোবর সোমবার সকাল সাতটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রায়ার জ¦লিয়ে পৌর শহরের উত্তর বাজারের সড়ক অবরোধ করে রাখে।


নিহত যুবক পৌর শহরের কাচারী পাড়া মহল্লার মৃত বিধান সরকারের ছেলে। ওই যুবক পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী।


পুলিশ, নিহতরে পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোবাবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আতিয়ার রহমান ও সুমন মিয়ার নেতৃত্বে যুবক বিশ্বজিৎ চন্দ্র কে গাঁজা পাওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়। পরে এলাকাবাসী এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর যুবক বিশ্বজিৎ বাসায় যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পরে রহস্যজনক ভাবে মারা যায়।


পরে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যুবক বিশ্বজিৎ কে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে, সোমবার সকাল সাতটা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিক্ষব্ধ জনতা ট্রায়ার জ¦ালিয়ে পৌর শহরের উত্তর বাজারের সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে যানচলাচল ও দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।


নিহত যুবকের বড় বোন শিউলী দে বলেন, আমার ভাই কে পুলিশ অন্যায় ভাবে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেছে। এর ফলেই সে মারা গেছে। এই কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটা হত্যা। আমরা এর বিচার চাই।


এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফসিহুর রহমান বলেন, যুবক বিশ^জিৎ কে ৫০-৬০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে রোববার রাত ১০টার দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মুচলেকা দিয়ে ওই যুবককে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। এমনকি তাকে কোন প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করা হয়নি।


সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/খায়রুজ্জামান/২রা অক্টোবর ,২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৩