১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:১৭

পুলিশী নির্যাতনে কিশোরের মৃত্যু, বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ

 

ডেস্কনিউজঃ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পুলিশের নির্যাতনে বিশ্বজিৎ দেব (১৮) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সোমবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা কিশোরের মৃতদেহ নিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে কয়েক ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের উত্তর বাজার জনৈক রুহুলের চায়ের দোকান এলাকা থেকে বিশ্বজিৎকে ৬০ গ্রাম গাজাসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দর সুপারিশে পরিবারের লোকজনের কাছে মুচলেকা রেখে বিশ্বজিৎকে ছেড়ে দেয়া হয়। থানা থেকে বিশ্বজিৎকে বাসায় নেয়ার পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনাবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোয়ণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্বজিতের বোন শিউলী জানায়, বিশ্বজিৎ শান্ত স্বভাবের ছেলে। সে কখনো নেশা করে না। পুলিশ অন্যায়ভাবে বিশ্বজিৎকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। ওর প্যান্টের পকেটে পুলিশ গাজা গুঁজে দিয়েছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

পৌরশহরের কাচিপাড়ার মৃত বিধান সরকারের ছেলে বিশ্বজিৎ ঢাকায় একটি সিগারেট কোম্পানিতে কাজ করতেন। দূর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় পুলিশের দুই এএসআই আতাউর রহমান ও সুমন বিশ্বজিৎকে আটক করে। বিশ্বজিতের পরিবার এতোটাই অসচ্ছল যে, তাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু পর্যন্ত নেই। অন্যের বাড়িতে তারা আশ্রিত।

এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বিধবা মা জবা রাণী বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন। মায়ের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফসিহুর রহমান বলেন, যুবক বিশ্বজিৎকে ৫০-৬০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে রোববার রাত ১০টার দিকে পরিবার থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই সময় সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। তাকে কোনো প্রকার নির্যাতন করা হয়নি।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই রির্পোট লেখার সময় বিশ্বজিতের মৃতদেহ জেলা সদর হাসপাতালে রয়েছে।

 

কিউএনবি/ বিপুল/২রা অক্টোবর,২০১৭ ইং /সন্ধ্যা ৬:০১