ব্রেকিং নিউজ
২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৫০

কুড়িগ্রামে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

 

শফিকুল ইসলাম বেবু, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে শ্রদ্ধা ও গাম্ভির্য্যপূর্ণ পরিবেশে দেশবরেণ্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে কবির সমাধীতে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়।


পরে কবির সমাধীস্থল থেকে একটি শোক র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে কবির আত্মজীবনী নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সাবিহা খাতুনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, সিভিল সার্জন ডা: এস.এম আমিনুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতিরি সভাপতি অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রামহাম লিংকন, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক সফি খান, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজিউল ইসলাম প্রমুখ।


২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার অকাল প্রয়াণে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে হয়েছে অপূরণীয় ক্ষতি। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ হকের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য কুড়িগ্রামে সর্বস্তরের মানুষ তার সমাধীতে ভীর জমিয়েছেন। সারাদিন দূল-দূরান্ত থেকে কবিপ্রিয় মানুষ সমাধীতে এসে পূষ্পমাল্য অর্পন করেন।


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম কুড়িগ্রাম পৌর শহরের থানা পাড়ায়। তার বাবা মরহুম সিদ্দিক হক ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তর। বাবার ছিল একটি হোমিওপ্যাথিক দোকানের ব্যবসা। শহরের ঐতিহ্যবাহি জাহাজ মোড়ে তার মায়ের নামে ছিল নুরজাহান মেডিকেল হল। সব্যসাচী লেখক ৫ ভাই আর ৩ বোনের মধ্যে সবার বড়। ছোট বেলা থেকেই ছিলেন চঞ্চল আর দুরন্ত। মেধাবী শামসূল হককে এলাকার মানুষ বাদশা নামে ডাকতেন। তিনি অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত রিভার ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে ঢাকায় পাড়ি জমান। কুড়িগ্রামে তার ছোট ভাই এ্যাডভোকেট আজিজুল হক পরিবার নিয়ে এখানেই থেকে যান। সব্যসাচী লেখককে ঘিরে একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা থাকলেও আজো তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ কুড়িগ্রামবাসী।

 


কবির আত্মজীবনী নিয়ে আলোচনা সভায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু জানান, দেশবরেণ্য এই সব্যসাচী লেখকের স্মৃতি ধরে রাখতে সংষ্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগের কথা আমরা জেনেছি। এজন্য নকশা তৈরীর কাজ চলছে। এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। এলাকার মানুষেরও অনেক দাবি রয়েছে। সব মিলিয়ে কবিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদেরকে তার লেখা বেশি বেশি চর্চা করতে হবে।


জেলা আইনজীবী সমিতিরি সভাপতি অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রামহাম লিংকন জানান, বহুমাত্রিক লেখক সৈয়দ হক নাড়ির টানেই ফিরেছিলেন জন্মভূমির মাটিতে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এই মানুষটির লেখায় বারবার ফিরে এসেছে কুড়িগ্রামের কথা। বিশ^জনিনভাবে তিনি প্রিয় জন্মভূমিকে তুলে ধরেছেন। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ থেকে এই প্রজন্মকে রাহুমুক্ত করতে সৈয়দ হককে নিয়ে গড়তে হবে নতুন বলয়। এজন্য নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।


জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, দেশবরেণ্য সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আজ কুড়িগ্রামে তার প্রিয় জন্মভূমিতে শায়িত রয়েছেন। লেখার জগতে ছিল তার অবাধ বিচরণ। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি লিখে গেছেন অসংখ্য লেখা। তাকে জানতে হলে, বুঝতে হলে তার লেখাগুলো পড়তে হবে। কুড়িগ্রামে কবিকে ঘিরে রচনা করতে হবে এক সংস্কৃতির জগত।

 

 

কিউএনবি/বিপুল /২৭ শে সেপ্টেম্বর ,২০১৭ ইং/ বিকাল ৩:৪৫