২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:০৬

মানিকগঞ্জ’র ঘিওরে ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন

 

ডেস্কনিউজঃ মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলা পুরাতন ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নদীতে বড় বড় ট্রলারের মধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর পারের বসত বাড়ি ও দুইশ’ হেক্টর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার পুরাতন ধলেশ্বরী / কালিগঙ্গা নদী থেকে অবৈধ ভাবে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রলারে দেশীয় ছোট ড্রেজার বসিয়ে হাজার হাজার ঘন ফুট বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে।

ফলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্জিত হচ্ছে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারনে নিরব ভুমিকা পালন করছে।
জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা, নারচী,বেগুন নারচী, ঘিওর পূর্ব পাড়া,বাইলজুরি, পয়লা ইউনিয়নের শ্রীধরনগর,বানিয়াজুরি ইউনিয়নের জাবরা, তরা,কেল্লাসহ বিভিন্ন গ্রামের নদীর পাড় ঘেষে ৪০-৫০ টি নৌকায় দৈনিক অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কতিপয় প্রভাবশালী দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলা ক্ষমতাসীন দলের জনৈক নেতার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট বালু ব্যবসা পরিচালনা করছে। ভয়ে কেউ কোন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না।

ইদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন করায় পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি এলাকাবাসীর দুইশ’ হেক্টর ধানী ফসলি জমি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, যে কোনো সময় ধসে যেতে পারে আশেপাশের বসবাসকারী বাড়িঘরগুলো।

নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসি জানান, বন্যা মৌসুমে বড় ট্রলারে দেশীয় ড্রেজার বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার লোক জনের কাছে বিক্রয় করা হয়। প্রতি ট্রলার বালু উওোলন করতে চাঁদা দিতে হয় ৮০ টাকা।

গড়ে প্রতিদিন ৭০/৮০ ট্রলার বালু উত্তোলন করা হয়। অনেক ট্রলার মালিকরা নিজেরাই ট্রলারে মিনি ড্রেজার বসিয়ে সারা দিন বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয় করে। নদী থেকে অব্যাহত বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর ঘর-বাড়ি সহ বহু ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদীতে অহরহ বালু ভর্তি ট্রলার চলার কারনে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করে। তারা আরোও জানান, প্রতি বছর ভরা বর্ষা মৌসুমে এই চক্রটি ট্রলার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে।

ফলে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ রূপ ধারন করে। বহু লোক জন ঘর-বাড়ি,ফসলি জমি হারিয়ে আতœীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন করলে কুস্তা,নারচি, শ্রীধরনগর, সহ বহু এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ড্রেজার মেশিন বন্ধ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা খন্দকার জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মোবাইলকোর্ট করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

কিউএনবি/বিপুল/১৭ইসেপ্টেম্বর ,২০১৭ ইং/৩:৪৮