১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:৪৮

ভান্ডারিয়ায় ইটভাটা নিয়ে দ্বন্দ্ব, চেয়ারম্যানের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

নিউজ ডেস্কঃ ভান্ডারিয়ায় ইটভাটা নিয়ে দ্বন্দ্ব, চেয়ারম্যানের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামে সৌদিয়া ব্রিকস নামের একটি ইট ভাটায় যৌথ মালিকদের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকসহ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শালিস বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সৌদিয়া ব্রিকস এর মালিক জাতীয় পার্টি (জেপি) এর ওলামা পার্টির উপজেলা আহবায়ক এএসএম ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আহমাদ মারুফ তালুকদার ও ওবায়দুর রহমান আরিফ জানান, ২০০৬ সনের রাজপাশা গ্রামের মেহেদি হাসান মনির জোমাদ্দার ও দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের মোজাম্মেল মল্লিক এর সঙ্গে যৌথভাবে ইটাভাটার ব্যবসা শুরু করেন।

২০১৩ সনের ৩১জুলাই ৭ বছরের ব্যবসার চূড়ান্ত হিসাবান্তে দেখা যায় মেহেদি হাসান মনির জোমাদ্দার ও মোজাম্মেল মল্লিক মূলধনের অতিরিক্ত ৩৫ লক্ষ টাকা নগদ এবং  সৌদিয়া ব্রিকস এর রশিদ ব্যবহার করে অর্ধশত ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম ইট বিক্রি করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। সেই অর্থ দিয়ে সুকৌশলে উপজেলার চরখালীতে আর ই বি নামে অপর একটি ইট ভাটা চালু করে। এর পর থেকেই এ অংশিদারদ্বয় সৌদিয়া  ব্রিকস এর সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং বিনিয়োগ করা সম্পূর্নভাবে বন্ধ করে দেয়। এ অংশিদারদ্বয় মূলধনের দুই থেকে তিনগুন অর্থ নেয়ার পরেও মালিকানা দাবীকরে প্রায়শই প্রভাব খাটিয়ে ইট ছিনিয়ে নেয় এবং ইট ভাটার শ্রমিক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করে। এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদারের কার্যালয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক করা হয়।

মেহেদি হাসান মনির ও মোজাম্মেল মল্লিক শালিস বৈঠকে অগ্রিম ইট বিক্রি করে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া সেসব টাকা তারা সৌদিয়া ব্রিকসে জমা দেন নি বলেও স্বীকার করেন। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকবারই অংশিদার মেহেদি হাসান মনিরের আত্মীয় স্থানীয় বাদশা জমাদ্দার ও টুলু তালুকদার নামে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের প্রভাবে শালিস নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয়।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল সৌদিয়া ব্রিকসের মালিকদের কোনো কথা না শুনেই মেহেদি হাসান মনিরদের পক্ষে রায় দেন। আসল মুলধনের কয়েকগুন বেশী টাকা নেয়ার পরও তিনি সৌদিয়া ব্রিকসের মালিকদের উল্টো মেহেদী হাসান মনিরদের দ্বারা ইট বিক্রি করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

শালিস বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান কোনো হিসাব নিকাশের তোয়াক্কা না করে এমন রায় দেয়ায় তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভান্ডারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে হলে তিনি জানান, সৌদিয়া  ব্রিকসের বিবাদমান ঘটনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুল রশিদ খসরু ও ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু এই শালিসে আছেন। আমরা দু’পক্ষের কথা শুনছি, আলোচনা করছি। দু’পক্ষের কথা শোনা শেষ হলে আমরা চূড়ান্ত রায় দিবো।

সৌদিয়া ব্রিকসের টাকা হাতিয়ে নেওয়া মনিরদের দ্বারা ইট বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে শালিসের চূড়ান্ত রায় দিবো।

বিষয়টি ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সৌদিয়া ব্রিকস নামে একটি ইটের ভাটায় বারবার হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এবং কোন সংঘর্ষ যাতে না হয় সেদিকেও আমাদের নজর আছে।’

কুইকনিউজবিডি.কম/টিআর/১৩.০৫.২০১৬/২৩:৩৫