১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৫৫

এসএসসিতে এসএম হল মেসবয়ের অভাবনীয় সাফল্য

মোঃ সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চাঁদপুরের, মতলব থানার লাকশিবপুরে আলামিনের বাড়ি। দুই ভাই, চার বোনের মধ্যে পঞ্চম আলামিন। বাবা, মাসহ ৮ সদস্যের অভাবের সংসার। বাবা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দিনমজুর। সংসারের অভাব ঘোচাতে বাবার সঙ্গে কাজে যেত আলামিন। মা সেতারা বেগম কাজের পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। কিন্তু অভাব আলামিনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, অভাব অনটনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আলামিন আঁধার ঘরে আলো জালিয়েছে। আলামিন এসএসসিতে বাণিজ্য শাখায় কুমিল্লা বোর্ডের লাকশিবপুর ফিরোজা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৬৭ পেয়েছে (রোল-৫৮৩৩১৭)।

সংকল্প, পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর মনের জোরে সে প্রতিকূলতা দূরে ঠেলেছে। অভাবের সংসারে ভাইবোনের মধ্যে কেউই স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেনি। আলামিনও তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে যায়নি। বাবার একার উপার্জনে সংসার চলে না। ১৩ বছর বয়সে অভাবের সংসারে একটু হাসি ফোটানোর আশায় ঢাকা এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএম হলের মেস ‘ঐতিহ্য’ তে মেস বয়ের কাজ শুরু করে।

সে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, সেও পড়াশোনা করে অভাবের সংসারে সবার মুখে হাসি ফোটাবে। নিজ পায়ে দাঁড়ানো আর শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার অনুপ্রেরণায় ২০১৩ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পুনরায় শিক্ষা জীবন শুরু করে। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়। সে মেসে কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারেও আর্থিক জোগান দিত। এরই মাঝে তার পড়াশোনা চালিয়ে ২০১৩ সালের জেএসসিতে জিপিএ ৪.৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

এরপর একই বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। রাত ছাড়া দিনে পড়ার সুযোগ হতো না আলামিনের। স্কুলও কামাই হতো। প্রাইভেট পড়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। বাড়িতে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করত আলামিন। সে মেসে কাজ করার পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে নেয়। আলামিন জানায়, ‘মাঝে মাঝে ছুটি নিয়ে ক্লাস আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতাম, আর টাকা জমিয়ে মাঝে মাঝে প্রাইভেট পড়তাম কারণ অন্যদের মতো আমার সামর্থ্য ছিল না, আবার বাড়িও টাকা দিতে হতো।’

তার বড় তিন বোনের বিয়ে হয়েছে, ভাইবোনের মধ্য সে পঞ্চম এবং একমাত্র সেই পড়াশোনা করছে। ভবিষ্যতে সে আরও পড়াশোনা করতে চায়, বড় অফিসার হয়ে বাবা- মায়ের কষ্ট দূর করতে চায়। সে দমে যায়নি। স্বপ্ন পূরণের সংগ্রামে হার মানেনি দারিদ্র্যের কাছে। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৬৭ পেয়ে হাসি ফুটিয়েছে দুঃখী মা-বাবার মুখে। শিক্ষা জীবনের এ সাফল্যে তার দু’চোখে এখন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার মনে শঙ্কার পাহাড়। অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তার। তার স্বপ্নের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবানরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেই তার উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে। যোগাযোগের নাম্বার-০১৯২০৫০৩৯৪৭।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/১৩.০৫.২০১৬/১২:৩৭