১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৩২

পায়রার ভাঙনে ঝুঁকিতে ১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 

ডেস্কনিউজঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গত এক বছরে সুন্দ্রা কালিকাপুর, পিপড়াখালী,রামপুর,পূর্ব রামপুর ও আর্জিদুর্গাপুর এলাকা থেকে দুইশতাধিক বসতঘরসহ পিপড়াখালী বাজারটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ঘরহারা মানুষগুলো আশ্রয়নিয়েছে স্কুলের বারন্দায় এমনকি বেড়িঁবাঁধে। পায়রা নদী ভাঙ্গনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পিপড়াখালী,সাহেলাখাতুন ২টি ও কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,চরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সালেহা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,চরখালী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রসা ও রামুপুর সিদ্দিকিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাসহ ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে কোন সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতিমধ্যে দুই মাস আগে সুন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি ভেঙ্গে নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

সম্প্রতি পায়রা নদীর মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর লঞ্চঘাট থেকে প্রায় দুইশত ফুট ওয়াপদা বেড়িঁবাধেঁর একাধিক স্থানে ভাঙ্গনের ফলে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে কয়েকটি গ্রাম। প্রতিদিন জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের সন্তোষপুর,আর্জিদুর্গাপুর,মধ্যে ও পূর্ব এবং উত্তর রামপুর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এমনকি বিকল্প কোন যাতয়াতের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। বাধঁ ভাঙ্গার কারেন রামপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উঠা-নামা করতে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। পায়রার অব্যহত ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে উপজেলার গোলখালী, চরখালী, রানীপুর,হাজীখালী, মেন্দিয়াবাদ, সাতবাড়িয়া, কাকড়াবুনিয়া বাজার, ভয়াং, মনোয়ারখালী, কলাগাছিয়া, পিপঁড়াখালী,ভিকাখালী বাজার, পূর্বরামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ গ্রামের ঘরবাড়ি এবং ফসলী জমি পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে এসব এলাকায় ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। পায়রার ভাঙ্গনে প্রায় একশত একর জমি ইতি মধ্যে পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বহু পরিবার ভিটে মাটি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে।

সুন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ আলমগীর কবির সুলতান বলেন, পায়রা নদীর দশবছরে যে ভাঙ্গন দেখা যায়নি। এক সময়ে পিপড়াখালী উপজেলার মধ্যে বড় বাজার ছিল তা এখন নদীর মাঝ খানে চলে গেছে। বাজরের চিহ্নটুকু পর্যন্ত নেই। পায়রার ভাঙ্গনে ৩ থেকে ৪টি স্লুইজ গেটসহ রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে গেছে।

রামপুর গ্রামের মিলন সিকদার বলেন, এ নিয়ে ৪বার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছি। বার-বার নদী ভাঙ্গনের কারনে এখন আর মাথা গোঁজারমতো জমি নেই। বাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ার বর্তমানে এ এলাকার লোকজন ‘ভাটায় রাধেঁ, জোয়ারে খায়’। প্রমত্তা পায়রার মাঝখানে এক সময় আমাদের বাড়ি ছিল,নিজস্ব চাষাবাদের জমি ছিল। কিন্তু রাক্ষুষে পায়রা নদী বাড়ি-ঘড়,জমি-জমা সবই গ্রাস করে নিয়েছে। রামপুর এলাকার মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই পায়রা নদী গর্ভে ভেঙ্গে যাচ্ছে বেড়িঁবাধঁসহ ফসলী জমি। ভাঙ্গন কবলিত মানুষজন তারা স্কুলের বারান্দায়,অন্যের জমিতে এবং উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এ নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যেই দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভাঙ্গনের কারেন বর্তমানে রামপুর সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রসাওটি কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙ্গে যাবে। এ নিয়ে মাদ্রাসটি তিন বার স্থানন্তর করা হয়েছে।

সুন্দ্রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল রাজ্জাক বলেন, ভাঙ্গনের প্রবনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দ্রা বিদ্যালয়টি অন্যত্র সড়িয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও মির্জাঞ্জের ১৩টি সরকারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পায়রা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৮টি গ্রাম থেকে বহু পরিবারের বসত ঘর পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে বেড়িঁবাধ পূর্ননির্মান বা সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান জানান,পায়রা নদী তীরবর্তী মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা। নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য ইতিমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরী কাজ চলছে এবং সারে চার কিলোমিটার নদী ভাঙ্গন রোধ করার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হবে। 

 

 

কিউএনবি/তানভীর/৬ই সেপ্টেম্বর,২০১৭ ইং/রাত ১২:১৬