১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:১৬

ট্রেনের টিকেট নিয়ে দুর্নীতি, ছয়জনের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা

 

সিরাজগঞ্জে ট্রেনের টিকেট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে স্টেশন মাস্টারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবনার সমন্বিত কার্যালয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়ায় রেলওয়ের টিকেট বিক্রি, টিকেট রিফান্ড ও বাতিলের অর্থ আত্মসাৎ, লোকাল সার্ভারের তারিখ ও সময় পরিবর্তন করে প্রতারণার মাধ্যমে কালোবাজারে রেলওয়ের টিকেট বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে দুদক পাবনার পক্ষে সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের সাবেক বুকিং সহকারী গ্রেড-২ (চাকরিচ্যুত) মো. রোকনুজ্জামান মিলন (৩৫), সাবেক বুকিং সহকারী গ্রেড-২ শেখ আশরাফুজ্জামান (৩৫), সাবেক বুকিং সহকারী গ্রেড-২ (বর্তমানে কুষ্টিয়ার মিরপুরের পোড়াদহ জংশনে কর্মরত) মো. হাফিজুর রহমান (৩০), সাবেক স্টেশন মাস্টার গ্রেড-২, বর্তমানে শহীদ এম মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত খান মো. মনিরুজ্জামান (৫৬), নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে কর্মরত (সাবেক ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার সিএনএস লিমিটেড) মো. রেজওয়ান আহমেদ রিজন (৪২) ও উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের অবসরপ্রাপ্ত বুকিং সহকারী গ্রেড-২ মো. মানিক চাঁদ (৬২)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামিরা গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে ২০ মে ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে কম্পিউটারাইজড টিকেট ইস্যুর ক্ষেত্রে ১০ দিনের বেশি অগ্রিম টিকেট ইস্যুর বিধান না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে লোকাল সার্ভারের তারিখ ও সময় পরিবর্তন করে দুই হাজার ৯১৪টি অগ্রিম টিকেট ইস্যু করেন। তাঁরা টিকেট বিক্রির সাত লাখ ৪৭ হাজার ৬৫ টাকা সরকারি খাতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

অন্যদিকে উল্লাপাড়া স্টেশনে ২০১৩ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হরতালজনিত কারণে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে টিকেট রিফান্ড হয়েছে। ওই সময় উল্লাপাড়া স্টেশন থেকে এক হাজার ৪০৭টি টিকেট রিফান্ড হয় এবং এক হাজার ৪১টি টিকেট বাতিল হয়। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বুকিং সহকারীরা নিজ নিজ আইডি ব্যবহার করে প্যাসেঞ্জারের টিকেট বাতিল ও রিফান্ড টিকেটের মূল্য বাবদ মোট নয় লাখ ৪৯ হাজার ১৪২ টাকা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে বিক্রি দেখান ও রিফান্ড করেন এবং রিফান্ড টিকেটের প্যাসেঞ্জার কপি ও রেকর্ড কপি গোপন করে রিফান্ডের টাকাসহ পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া একই স্টেশনে টিকেটের মূল্য বাবদ ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্সাৎ করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় পাবনার উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

কিউএনবি/তানভীর /২৯শে আগস্ট, ২০১৭ ইং/রাত ৮:৫২