১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৪৬

বিএনপি’র কিছু নেতার অতিকথন ও অপরিপক্কতা

 

উপসম্পাদকীয়ঃ সাড়া দেশে এ মুহূর্তে প্রবল বন্যা বই যাচ্ছে। মানুষ দিশেহারা। সহায় সম্বল, ক্ষেত্, ফসল গরু ছাগল সবই ভেসে যাচ্ছে। স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় মানুষের আহাজারীর মাঝে কিছু রাজনীতিবিদ আছেন অতি কথনে ব্যস্ত। সাম্প্রতিক কালে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে কম কথা হয়নি। এখনো হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল সবচেয়ে বেশি কথা বলেছে এ রায় নিয়ে। আওয়ামীলীগের সব শ্রেণীর নেতা সহ মন্ত্রী এমপি কেউই বসে নেই। কম বেশি সকলই এ রায় নিয়ে বিস্তর সমালোচনা করেছেন। প্রধান বিচারপতিকে সরাসরি আক্রমণ করে বেশির ভাগ বক্তব্য গুলো ছিল।

বিএনপিও এই রায় নিয়ে কম কথা বলেনি। প্রতিদিনই সব ধরণের মিডিয়া গুলোতে রায়ের পক্ষে তারা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। গঠনমূলক বক্তব্যের চেয়ে অতিকথন হয়েছে বেশি।  অপ্রয়োজনীয় কথা বলা শুরু করেছেন এখন বিএনপির অনেক নেতাই।


গতকাল ১৮ই আগস্ট বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম এমন কিছু কথা বলেন,যাকে মামা বাড়ির আবদার ছাড়া আর কিছুই বলা যায়না। তিনি বলেন, আমরা জানি আদালত সংসদ ভেঙে দিতে পারে না। কিন্তু অবজারভেশন দিতে পারেন। আদালত যেহেতু বর্তমান অনির্বাচিত সংসদকে অপরিপক্ক (ইমম্যাচিউরড) বলেছেন সেজন্য আদালত এ সংসদকে ভেঙে দেয়ার অবজারভেশন দিলে তা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। জনগণ প্রত্যাশা করে বর্তমান অপরিপক্ক সংসদ অবিলম্বে ভেঙে দেয়া উচিত। সহজ ভাষায় বলা যায়, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ চান প্রধান বিচারপতি যেন এ সংসদ ভাঙার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।


ষোড়শ সংশোধনী রায়টি একটি যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে। দীর্ঘদিন কোর্টে শুনানি শেষে এমিকাস কিউরির পরামর্শ মোতাবেক এই রায়টি প্রকাশ পেয়েছে। সাত জন বিচারপতি নিয়ে গঠিত বেঞ্চ সর্বসম্মতি ক্রমে এ রায় প্রদান করেছেন। যাদের রায় পছন্দ হয়নি, তারা প্রধান বিচারপতিকে অহেতুক দোষারোপ করছেন। রায়টি তিনি কিন্তু একক ভাবে দেননি।


সে কথা যাক, আমি বিএনপির অতিকথন নিয়ে কথা বলছিলাম। মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। সাবেক মন্ত্রী। তিনি কি করে বলেন, প্রধান বিচারপতি যেন এই সংসদ ভাঙার উদ্যেগ গ্রহণ করেন? এ বিষয়ে কারো কোনো ক্ষুব্ধতার বিষয় থাকলে হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। সংসদ ভেঙে দেয়ার আবেদন করতে পারেন। কোর্ট যথাযথ প্রক্রিয়ার মাঝে এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত দিবে। মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর আবদার যদি বিবেচ্য হয় কোনো কারণে, তাহলে ভবিষ্যতে বিচারপ্রার্থীরা কোর্টে যাওয়ার আগে প্রেসক্লাবে কনফারেন্স করে প্রধান বিচারপতির নিকট এ রকম দাবি দাওয়া জানিয়ে তারপর কোর্টে যাবে।

ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে বিএনপি নির্বুদ্ধিতার পরিচয় কম দেয়নি। হরতাল, আন্দোলন, সংগ্রামের ডাক দিয়ে নেতারা এসি রুমে বসে টিভিতে দেখার চেষ্টা করেছে হরতাল কেমন হচ্ছে ? তবে দেশবাসী আশা করে বিএনপি এখন গঠনমূলক রাজনীতি করুক।

 


 

 

 

 

 

লেখকঃ লুৎফর রহমান, কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ

 

কিউএনবি/বিপুল/১৯ই আগস্ট, ২০১৭ ইং/বিকাল ৩:৫৭