২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৫৩

বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ধস নতুন এলাকা প্লাবিত

 

ডেস্কনিউজঃ দিনে দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে বন্যা। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নওগাঁ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, বগুড়া ও জামালপুরে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়েছে বন্যাদুর্গত মানুষ। এদিকে, উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ দুর্গতদের। বন্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, একযোগে ভারত ও নেপালে হচ্ছে। বন্যার কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে মারা গেছে কমপক্ষে ৫৮ জন। বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মারা গেছে ৮০ জন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মারা গেছে ৭৩ জন। এ তিন দেশে কমপক্ষে ২১১ জন মানুষ মারা গেছে। বন্যাপূর্বাভাসে যা বলা হচ্ছে তাতে এ সংখ্যা আরও বাড়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে বন্যার কারণে ভেলায় ভেসে বাংলাদেশ সীমান্তের মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে প্রবেশ করছে ৫ শতাধিক ভারতীয়। আমার সংবাদ প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।
জামালপুর : যমুনার পানি বাড়ায় নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে জামালপুর জেলা। গত সোমবার রাত থেকে নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুরসহ ৫ উপজেলার ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাদারগঞ্জে নাদাগাড়ি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও ফসলি জমি। গবাদিপশু নিয়ে মানুষ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় রেল চলাচল বন্ধ আছে।

নওগাঁ : গলা সমান পানিতে ডুবে আছে নওগাঁর মান্দা উপজেলা। চারদিকে পানি থাকলেও একটু বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষকে ছুটতে হচ্ছে দূর-দূরান্তে। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নার কাজ করতে হচ্ছে বাইরে। সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নিয়ামতপুর, আত্রাইসহ ৫ উপজেলার শতাধিক গ্রাম। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। তিনদিন পার হলেও এখনও ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বন্যা দুর্গতরা।

গাইবান্ধা : প্রবল পানির চাপে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধায় করতোয়া নদীর বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধের তিনটি পয়েন্ট ধসে গেছে। অপরদিকে গাইবান্ধার বড় তিন নদীর অন্তত ১৯ পয়েন্ট এখনও ঝুঁকির মুখে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বালির বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা চলছে। এদিকে, ধসে যাওয়া অংশ দিয়ে নতুন দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এবং গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বাঁধ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, চারদিকে তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, করতোয়াসহ সবগুলো নদীর পানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের ফুলছড়ি পয়েন্টে ১শ, ঘাঘট নদীর পানি ৮৫ ও করতোয়া নদীর পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট : ভয়াবহ বন্যা থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতীয় দুই গ্রামের প্রায় আট শতাধিক ভারতীয় নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় এসব ভারতীয় নাগরিক লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন ও আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে স্থানীয় লোকজনের বাড়ি, ফাঁকা জায়গা ও পাকা রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। ভারতীয়দের মধ্যে অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশিদের পূর্ব পরিচয় থাকার সুবাদেও আশ্রয় পেয়েছেন তারা। বন্যার পানি চলে গেলে তারা নিজ ঠিকানায় ফিরবেন। বাংলাদেশের লালমনিরহাটে আশ্রয় নেয়া ভারতীয় নাগরিক বছিরউদ্দিন (৭৫) গতকাল বিকেলে এ বলেন, বন্যায় আমরা ভারতের জারি ধরলা চর থেকে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমাদের মতো অনেক পরিবার ভারতে ঢুকতে পেরেছে। আমরা প্রায় ৫শ মানুষ আটকা ছিলাম। ভেলায় ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশ সীমান্তের মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নে প্রবেশ করেছি। বিজিবির লোকজন যদি আমাদের ঢুকতে না দিতো তাহলে বন্যার পানিতে পরিবার নিয়ে ডুবে মরতাম।

জয়পুরহাট : উজানের ঢলে মঙ্গলবারেও জয়পুরহাটে নতুন করে গ্রাম প্লবিত হয়েছে। এদিকে জযপুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বটতলী থেকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এক কিলোমিটার রাস্তায় হাঁটু পানি ওঠায় যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভেসে গেছে ৫ শতাধিক পুকুরের প্রায় ৫ কোটি টাকার মাছ। কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন- জেলার প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান ও শাক-সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

বগুড়া : বগুড়ায় যমুনার পানি ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলায় বিভিন্ন পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার অন্তত ১০টি পয়েন্টে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে এসব এলাকার লোকজন আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে। অনেকে বাড়িঘর সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার যমুনার পানি বিপৎসীমার ১২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে, যমুনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঙালি নদীর পানিও বাড়ছে। দুই নদীর নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো এখন প্লাবিত। বাঁধের ওপরসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া বন্যার্ত লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে।

 

কিউএনবি/ বিপুল /১৬ই আগস্ট, ২০১৭ ইং/দুপুর ১:২৮