২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:০৩

আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ২২০সেঃমি উপর দিয়ে প্রবাহিত

 

তানভীর চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষনে বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে খ্যাত পত্নীতলায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অধিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে আত্রাই নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার ২২০ সেঃমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আত্রাই নদী, মনোহর গঙ্গা খাড়ি সহ অন্যান্য ছোট, বড় খাড়ি, বিল, পুকুর ভরে টই টুম্বুর হয়েগেছে। এদিকে কৃষ্ণপুর, পাটিচরা, নজিপুর ও পত্নীতলায় ইউপির নদী তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় গৃহপালিত পশু পাখি নিয়ে মানুষরা বাঁধ এবং উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। অধিক বৃষ্টিাপাতের কারনে উপজেলার প্রায় ৫শ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, অধিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ফলে আত্রাই নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার ২২০ সেঃমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আত্রাই নদী, মনোহর গঙ্গা খাড়ি সহ অন্যান্য ছোট, বড় খাড়ি, বিল, পুকুর ভরে টই টুম্বুর হয়েগেছে। এদিকে কৃষ্ণপুর ইউপির গোপীনগর, পানবোরাম, মিরাপুর, শালডাঙ্গা, মহিমাপুর, পাগলীডাঙ্গা, বিষ্টপুর, শালবাড়ি, চকমুলি, ডাঙ্গাপাড়া, আমাইপুকুর, সোনাডাঙ্গা, চকগোবিন্দ, চক আক্রাম, গয়ারপুর, কৃষ্ণবল্লভ, পত্নীতলায় ইউপির পত্নীতলায় , ইছাপুর, কাঁটাবাড়ি, কল্যানপুর, কঞ্চিপুকুর, নজিপুর ইউপির কাঞ্চন, রাজপাট, পলিপাড়া, চাঁদপুর, পাটিচরা ইউপির ছালিগ্রাম, পাটিচরার নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি ফুকে এসব নিচু এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘর সহ প্রায় ৫শ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়েগেছে। এসব বাড়ি ঘরের মানুষ জনেরা বাঁধে এবং উঁচু স্থানে তাদের গৃহপালিত পশুপাখি ও আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকদের কাংক্ষিত রোপা আমন সহ রবি শস্য ক্ষেত। সেই সাথে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে বিশেষ করে গ্রামীণ হাট-বাজার সহ বিভিন্ন সড়ক হাঁটু কাদায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাঁটু পানি রয়েছে। অতি বৃষ্টিতে আত্রাই নদীর পানি বাড়াতে নদীর চড়ে অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা নজিপুর পৌর সভার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একমাত্র পৌর পার্কটি এখন পানিতে নিমজ্জিত।

এদিকে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে আত্রাই নদীতে তেমন পানির চাপ না থাকায় ব্যাপক উৎসাহের সাথে প্রায় ২৪ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আমন, ৬হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আউশ সহ ৩৫০ হেক্টর জমিতে রবি শস্য আবাদ করে এলাকার কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে ফসলের ক্ষতি হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, অধিক বৃষ্টিাপাতের কারনে উপজেলার প্রায় ৫শ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত না কমলে হয়তো আরো ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে কৃষকদের পরামর্শ ও সকল ধরনের সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে।

এদিকে এসব পানি বন্দি মানুষেরা সরকারী ভাবে কোন সহযোগীতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

 

কিউএনবি/রিয়াদ /১৫ই আগস্ট, ২০১৭ ইং /সন্ধ্যা ৬:২১