২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৫১

মায়াবৃক্ষ

মায়াবৃক্ষ
জাহিদ রহমান
তারুণ্যময় লেখিকা নাহিদা আশরাফী ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া করেছেন। লেখালেখিতে যার হাতেখড়ি অনেক আগেই। এবারের বইমেলায় তার লেখা ছোট গল্পের বই ‘মায়াবৃক্ষ’ প্রকাশ করেছে একাত্তর প্রকাশনী। বইটিতে মোট ৯টি ছোট গল্প স্থান পেয়েছে। কোনো গল্পের কলেবরই বড় নয়। গল্পের নামকরণেও সুচিন্তার ছাপ আছে। এটি সত্য যে, গল্প বলার আগেই গল্প শেষ হয়নি। যে গল্পগুলো বইটিতে স্থান দেয়া হয়েছে, সেটা আমাদের সমাজ জীবনেরই সত্যচিত্র। সেখানে স্থান পেয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখ, স্বপ্ন, আবেগ, প্রেম, মানবিকতা, সম্পর্ক-এর সঙ্গে আরো হরেকরকম অনুভূতি।
নাহিদা আশরাফী প্রতিটি গল্পই নির্মাণ করতে চেয়েছেন নতুন করে। এ কারণেই গল্প উপস্থাপনায় নতুনত্ব লক্ষণীয়। গল্পের মাঝেই লেখিকা কখনো কখনো কথক বা উপস্থাপিকা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন। উপস্থাপনার ঢং-এ নিজেই বলেছেন, এরপর আর কী কী হতে যাচ্ছে। বইয়ের শুরুর গল্প অনুষঙ্গ পুরাণ থেকে আমার লেখক হয়ে উঠার গল্প-সব গল্পেই নারী চরিত্রকে ভিন্নরূপে উপস্থাপন করেছেন। অনুষঙ্গ পুরাণ গল্পে বাবলু চরিত্র সবার বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করবে। সহযাত্রী গল্পটি যে কাউকে গল্পের ভেতর দ্রুত টেনে নিয়ে যাবে। ডায়েরি গল্পটিতে উপস্থাপিত সুতপা চরিত্রটি একেবারেই বাস্তবের ঘটনাবলীর সমন্বয়ে চিত্রন করা হয়েছে। এই গল্পটিতে সামাজিক অবক্ষয়ের সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তা ফুটে উঠেছে।
মায়াবৃক্ষের সবগুলো গল্পের মাঝেই কথনে, উপস্থাপনে বৈচিত্র্যময়তা লক্ষণীয়। বইটির নামকরণের জন্য লেখিকা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পাবেন। মায়ার সংসারে ‘মায়াবৃক্ষ’ বুঝি একচিলতে নতুন অনুভূতি আর চিন্তা।