২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৫৩

মাদারীপুর ছিলারচর গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্রী নির্যাতনে শিকার

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি :  মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাট ব্যবসায়ির মেয়ে গত মঙ্গলবার ছিলারচর দাখিল মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বখাটেদের ব্লেডের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মেয়েটি ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

হাসপাতাল, পুলিশ, পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাট ব্যবসায়ির মেয়ে ছিলারচর দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসায় যায়।


মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বোরখা পড়া অচেনা একটি মেয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুদুর গেলে ওড়ণা দিয়ে তার হাত বাধে। পরে ছাত্রীর মুখ ও চোখ বেধে ফেলে। এসময় তাকে টেনে হিচরে ছিলারচরের সীমান্তবর্তী শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীকান্তাপুর চর শিমুলিয়া গ্রামের মোতালেব বেপারীর পরিত্যক্ত কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এ সময় ছাত্রীকে ঐ অজ্ঞাত পরিচয়ের বোরখা পড়া মেয়েসহ মুখে কাপড় বাধা কয়েকজন যুবক মিলে প্রথমে মারধর করে। পরে ব্লেড দিয়ে শিক্ষার্থীর হাতে ও বুকে আঘাত করে। এসময় মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে বখাটের দল পালিয়ে যায়।


পরে বাগানের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছাগল নিয়ে আসলে মেয়েটিকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেয়। এসময় মেয়েটিকে ছিলারচর বাজারে নিয়ে আসলে স্থানীয়রা তাকে চিনতে পেরে বাড়িতে খবর দেয়। বাড়ির লোকজন তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করে পরে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।


মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ অখিল চন্দ্র সরকার বলেন, ঐ ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছি। তার হাত ও বুকের জখমের চিহ্ন আছে। হাতের জখম গুরুতর হওয়ায় সেখানে সেলাই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা করা হয়েছে।

মেয়েটির মা বলেন, প্রতিদিনের মতো আমার মেয়ে মাদ্রাসায় যায়। দুপুরে ছিলারচর বাজার থেকে ঘটনার কথা শুনে আমরা ছুটে এসেছি। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার মেয়েই বলতে পারবে। তবে আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। অপরাধীদের শাস্তি চাই।


নির্যাতিত ছাত্রীর কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলেন, মাদ্রাসার ছুটির পর একটি অটোবাইকে করে সে ছিলারচর বাজারে আসে। সেখানে অটোবাইক থেকে নামার পর একটি বোরখা পড়া মেয়ে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। বোরখা পড়া মেয়েটিকে সে চিনেনা।

কিছুদুর যাবার পর তাহার হাত, মুখ ও চোখ বেধে টেনে নিয়ে যায়। পরে পাও বাধে। একটি বাগানে তাকে অমানবিক মারধর করে। একপর্যায় তারা হাত ও বুকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে। এরপর তারা মুখ থেকে কাপড় সরায়। এসময় তারা বলে – এই মেয়ে না, এটা অন্য মেয়ে। এই বলে তারা তাকে ফেলে রেখে যায়। মেয়েটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে কি হয়েছে তা আর বলতে পারছেনা বলে মেয়েটি যানায়।


মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত হাসপাতালে চলে এসেছি। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কিউ এন বি /রিয়াদ /২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং/

বিকাল ৪:৪৬