১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৩১

বাহুবলে ৪ শিশু হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

 

নিউজ ডেস্কঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় চার শিশু হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর দুই আসামিকে দেয়া হয়েছে ৭ বছর করে কারাদণ্ড। এছাড়া তিন আসামিকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কিশোর কুমার কর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী কিশোর কুমার আরো জানান, ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- হাবিবুর রহমান আরজু, রুবেল মিয়া ও উস্তার মিয়া।

সাত বছরের সশ্রম দণ্ড দেওয়া হয়েছে জুয়েল মিয়া ও শোয়েব আহমেদ বশিরকে। আর খালাস পেয়েছেন আবদুল আলী বাগাল, বিল্লাল মিয়া ও বাবুল মিয়া।

তাদের মধ্যে উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক। বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকে আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু নিখোঁজ হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে গ্রামের অদূরে বালিমাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই শিশুরা হলো—সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার দুই চাচাতো ভাই আবদুল আজিজের ছেলে একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে একই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আবদুল কাদিরের ছেলে সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র ইসমাঈল হোসেন (১০)।

শুরুতে এ মামলা দেখভাল পুলিশ করলেও পরে তা তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের ৫ এপ্রিল ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মুক্তাদির নয়জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে মামলাটির বিচার শুরু হয়। ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

এ মামলার আসামিরা হলেন- পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়া।

বর্তমানে কারাগারে আছেন মামলার প্রধান আসামি আবদুল আলী বাগাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, ভাতিজা সাহেদ ওরফে সায়েদ ও অন্যতম সহযোগী হাবিবুর রহমান আরজু। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামিদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া নামের একজন র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর এ মামলার আসামি উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন।

 

কিউ এন বি /রিয়াদ /২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং/দুপুর ১:১৩