২৭শে মে, ২০১৯ ইং | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:১৮

রাবি শিক্ষক হত্যা: আন্দোলনে উত্তাল ক্যাম্পাস, আটক ১

রাবি থেকে আব্দুর রহমান আশিক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক ড. এ.এফ.এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। রোববার সকাল থেকে শিক্ষক সমিতি, ইংরেজী বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করেন।

এক শিক্ষার্থী আটক: শনিবার রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তমিজউদ্দিন সরদার। আটক যুবককে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক যুবকের নাম পরিচয় জানাননি মহানগর ডিবি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে নাম জানা না গেলেও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান।

শিক্ষক সমিতির ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন: এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে রাবি শিক্ষক সমিতির ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। রোববার ও সোমবার দুই দিনের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের প্রথম দিন পালিত হয়। এর আগে শনিবার রাতে শিক্ষক সমিতির জরুরী মিটিংয়ে এই কøাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষক নেতারা।

এছাড়া সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মৌন মিছিলটি সিনেট ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে সিনেট ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমিতির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, সাবেক উপাচার্য প্রফেসর এম সাইদুর রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আনন্দ কুমার সাহা, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি ড. এ.এফ.এম মাসউদ আখতার প্রমুখ।

সমাবেশে উপাচার্য প্রফেসর মিজানউদ্দিন বলেন, ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে বার বার হত্যাকা- সংঘটিত হচ্ছে। পিছনে ফিরে তাকালে আমরা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি পাই। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের চিঠির মাধ্যমে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিতকতায় শিক্ষক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করেছি। ঘটনার প্রকৃত তদন্ত করে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।’

উপচার্য আরো উল্লেখ করেন, ‘একের পর এক শিক্ষক হত্যার মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করা হচ্ছে, আমরা বাঁচতে চাই না। এই অশুভ কালের শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর শহীদুল্লাহ বলেন, ‘এক এক করে শিক্ষকের প্রাণ যাবে, আর আমরা তা দেখেই যাবো তা হতে পারে না। অনতিবিলম্বে রেজাউল করিমসহ সকল শিক্ষকের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তিনি।’

শিক্ষক নেতা আরও বলেন, ‘বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে। শুধু সংহতি নয়, কর্মসূচি প্রদান করুন। একইভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনকে কর্মসূচি গ্রহনের আহ্বান জানান।’

ইংরেজী বিভাগের কর্মসূচি: সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কালো ব্যাচ ধারণ করে ক্যাম্পাসে শোক মিছিল বের করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ইংরেজি বিভাগের সামনে থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সিনেট ভবনের সামনে এসে শিক্ষক সমিতির কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করে। পরে বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে অবস্থান করতে থাকে। এসময় তারা বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্লাকার্ড লেখে এবং নিহত শিক্ষককে নিয়ে স্মৃতিচরণ করতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ প্যারিস রোডে অবস্থান করে শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া বেলা ১টার দিকে বিভাগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সভাপতি ড. এ.এফ.এম মাসউদ আখতার। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, সপ্তাহব্যাপী সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন। এছাড়া সোমবার বেলা ১১টায় নিহত শিক্ষকের স্মরণে শোক সভার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রগতিশীল জোটের কর্মসূচি: প্রগতিশীল জোট বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেছ। এছাড়া বেলা ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সমানে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন। এছাড়া আলাদা আলাদা ভাবে মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখা ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট রাবি সাংসদের নেতাকর্মীরা।

মামলা ডিবিতে হস্তান্তর: শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব বোয়ালিয়া থানা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার সকালে রাবি উপাচার্যের বাসভবনে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তমিজউদ্দিন সরদার। তিনি বলেন, ‘মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভালভাবে তদন্তের জন্য তা এরই মধ্যে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পুলিশ হত্যায় জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পারবে।’

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/২৪.০৪.২০১৬/১৮:৩৪

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial