১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৪০

আগৈলঝাড়ায় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি কৃষকরা পাচ্ছেন না ধানের ন্যায্যমূল্য

 

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে : বরিশালের আগৈলঝাড়ার কৃষকরা মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেনা কৃষকরা। গত শনিবার উপজেলা সদরের হাটে ধানের বাজার ঘুরে দেখা গেছে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বেশি হলেও সেই তুলনায় ধান বিক্রিতে দাম পাচ্ছে না কৃষকরা।


কৃষকদের অভিযোগ, এক শ্রেণীর মিল মালিক তাদের লোকজনের মাধ্যমে হাট থেকে কম দামে ধান কিনে চালের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বেশী লাভের জন্য গুদামজাত করছে। মিল মালিকদের দালালেরা বাজার থেকে প্রতি মন হাইব্রিড মোটা ধান সর্বোচ্চ ৭শ’ ৬০ টাকা ও দেশী ২৯ চিকন ধান ৮শ’ ৫০ টাকায় ক্রয় করছে। সে হিসেবে কেজি প্রতি মোটা ধান ১৯ টাকা ও চিকন ধান ২১.২৫ টাকা। এ চিত্র শুধু উপজেলা সদর হাটেই নয়, প্রত্যন্ত এলাকার হাট-বাজারগুলোতেও একই চিত্র বিদ্যমান। বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও চালের বাজার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আয়ত্বের বাইরে। বাজারে মোটা চাল কেজি প্রতি ৩৬ টাকা ও চিকন চাল ৪২ টাকা দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি বছর সরকার কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিলেও অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকেরা। আগৈলঝাড়া হাটে ধান বিক্রি করতে আসা রাহুৎপাড়া গ্রামের অমল সরকার, নগরবাড়ি গ্রামের মানিক হাওলাদার জানান, প্রতি মন ধান উৎপাদন করতে তাদের এবছর খরচ হয়েছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা। অথচ উৎপাদিত সেই ধান সিন্ডিকেটের কারণে বিক্রি করতে হচ্ছে ৮শ’ থেকে সাড়ে ৮শ’ টাকা। আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর এভাবে লোকসান দেয়ায় চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কৃষক। ফলে এলাকায় পতিত বা অনাবাদি জমির পরিমাণ ক্রমশ: বেড়েই চলেছে।

 

 

কিউএনবি/বিপুল/১৬ই জুলাই, ২০১৭ ইং/রাত ৯:১৬