২৬শে মে, ২০১৯ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:১২

মাদারীপুর স্পিনিং মিল বন্ধ করায়,পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ

 

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: মাদারীপুরে স্পিনিং শ্রমিক ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইপুলিশসহ ২০ জন। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মিলের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ০৮ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

হঠাৎ করে মাদারীপুর প্রশাসন থেকে মাদারীপুর একমাত্র স্পিনিং মিল ঋনের দায়ে বন্ধ ঘোষনা করায় মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে প্রায় আধা ঘন্টা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবোরধসহ মিলের বাহিরে ৩ঘন্টা যাবত বিক্ষোভ মিছিল করে।

পরে স্থানীয়ও প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে মিলের ভিতরে শ্রমিকরা অবস্থান ধর্মঘট করে। এবং দুপুর দেড়টার দিকে প্রশাসন থেকে ঘোষনা আসে মিল বন্ধ থাকবে এর পরই পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ হয় । পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে এতে দুই পুলিশসহ আহত ২০।

জানা যায়, মাত্র ১৫কোটি টাকা ঋনের দায়ে সরকার এই মিলটি বন্ধ করার ঘোষনা দিয়েছে। এই স্পিনিং মিলে তিন সিফটে প্রায় ২হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক কাজ করে এবং প্রায় আড়াই মাস যাবত বেতন পাচ্ছে না। তারপর আবার আজ শুক্রবার মিল বন্ধ ঘোষনা করায় শ্রমিকরা অসহায় অবস্থা হয়ে পরে তাই কোন উপায় না পেয়ে কাজ ফেলে সকাল থেকে মাদারীপুরের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে মস্তাফাপুরের বড়ব্রীজ এলাকায় গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দেয় এতে প্রায় দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পরে।

পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবোরধ তুলে নিলেও বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট করতে থাকে। মিল শ্রমিকদের একটাই দাবী মাদারীপুর স্পিনিং মিল বন্ধ হতে দেবে না। তাহলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। তবে দুপুর দেড়টার দিকে মিলটি তালাবদ্ধ করতে গেলে পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে সংঘর্ষ হয় এতে পুলিশ লাঠিচার্জসহ টিয়ারসেল নিক্ষেপ করায় দুই পুলিশসহ আহত হয় ২০ জন। পরে প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ান করে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে আপতত মাদারীপুর স্পিনিং মিলটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

কহিনুর , মাজেদা, রহিমা, সাজেদা, মাহিনুর, সাহিনুরসহ বিভিন্ন শ্রমিকর জানায় , আমরা অনেকের স্বামী নাই, সন্তানদের এই পড়াশুনা কাড়াই এই মিলে কাজ করে ভিক্ষা করে না। আমরা জানী এই সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার আমাদের এভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেবে না। আমরা এই মিল বন্ধ হতে দেবো না।

মাদারীপুর স্পিনিং মিলে ডিজিএম, আলি আকবর জানান, আমাদের কোন নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে মাদারীপুর প্রশাসন আমাদের মিল বন্ধ করতে বলে আমরা অফিস থেকে শ্রমিকদের একথা জানালে তারা আন্দোলনে নেমে পড়ে। আমরাতো অসহায় হয়ে পড়ি। আমরা এখনো আড়াই মাসের বেতন শ্রমিকদের দিতে পারিনাই। এখানে এক একটি শ্রমিক একটি পরিবার নিয়ে বেচে আছে। আর আমরাই বা কি করবো।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ফিরোজ হোসেন বলেন, আমরা শাšিতপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করতে গেলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে এই সংঘর্ষ হয়। সরকার চাইছে, তাই আমরা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করতে এসেছি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার দেব বলেন, প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে আমরা সরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। শ্রমিকরা উত্তেজিত হলে আমরা লাঠিচার্জ করি। এতে কয়েকজন আহত হয়। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

 

কিউ এন বি /রিয়াদ /১৪ই জুলাই, ২০১৭ ইং/সন্ধ্যা ৬:২২

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial