১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:১৪

মাদারীপুরে মন্ত্রী ও এমপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৫

 

ডেস্কনিউজঃ  মাদারীপুরে ওসিকে অপসারণ এবং ছাত্রলীগ নেতার মামলা প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সংসদ সদস্য (এমপি) আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মিছিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে এই সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদের অপসারণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী মোল্লার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। আজ বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সমর্থকরা এই মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এর পর সেখানে মানববন্ধন শেষে সমাবেশে করেন তাঁরা।

দুপুর ১২টার দিকে এই মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গ্রুপের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে।

থেমে থেমে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ইটেরপুল, জজ কোর্ট চত্বর, নতুন শহর এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের ছোট ভাই খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ তখন নীরব ভূমিকায় ছিল। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

বাহাউদ্দিন নাসিম গ্রুপের সমর্থক বলে পরিচিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ভাতিজা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খান বলেন, ‘আমাদের এক কর্মীর আজ  আদালতে হাজিরা ছিল। হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় মানববন্ধন থেকে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এর জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুজন হেভিওয়েট (প্রভাবশালী) নেতার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হওয়ায় আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে পারছি না। তবুও দুই গ্রুপের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’

 

 

কিউএনবি/বিপুল /১২ই জুলাই, ২০১৭ ইং/রাত ১০:৪৮