২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৫৪

নদীর বুক চিরে বোরো চাষ কোথাও আবার ধুধু বালি

রাণীশংকৈল প্রতিনিধি: ঠাকুরগাও জেলার সীমারেখায় ছোট বড় ১২টি নদীর সমাহার। এক সময় নদীগুলোর রূপ লাবন্যে জেলার সৌন্দর্য বিকশিত হয়ে থাকত। কিন্তু প্রতি বছর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নদীগুলোতে বাঁধ নির্মানের ফলে এ জেলার নদীগুলো শুকিয়ে যায়। পানি শূন্য হয়ে পড়ে। নদীর বুক চিরে ফসল ফলানো হয়।

নদী তার রূপ লাবন্য হারিয়ে ধুধু বালিকায় পরিণত হয়। পাড় কেটে নদীর স্রোতধারার গতিপথ রোধ করে এক শ্রেণীর মানুষ ধান চাষে মেতে উঠে। জেলা ভূমিতে বয়ে যাওয়া টাঙন, সেনুয়া, ভুল্লী, ঢেপা, শুক নদী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অহনা, তিরনই, রাণীশংকৈলের কুলিক, পীরগঞ্জের লাচ্ছি, চরনা এবং হরিপুর সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদী এখন বিস্তীর্ন চরে রূপান্তিরিত হয়েছে।

ভারতীয় সীমান্তে একতরফাভাবে বাঁধ নির্মানের ফলে শুকনো মৌসুমে এসব নদ-নদীতে চর পড়ে যায়। এ সুযোগে এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী মানুষ চর কেটে চাষাবাদ করে। নদীর বুকে সবুজের সমাহার ঘটলেও পানি সংকটে থাকে পুরো এলাকা। সোনালী ধান ফলায়। নিজ স্বার্থ হাসিল হয় তাদের। দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় অর্থনৈতিক পরিবেশগত ভাবে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় জেলে সম্প্রদায়ের লোকজন। পুষ্টি ঘাটতি পড়ে জন জীবনে।

এতে বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে দেশী জাতের মাছ। শ্বশুর বাড়ি জামাই আসলে তার থালাই আর পড়েনা সিং, ট্যাংরা, শোল, বোয়াল,রুই মাছের মাথা। নদীগুলো ধান গাছের সবুজ পাতায় ভরে গেছে। নদীগুলো এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারি, বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে নিঃস্বার্থভাবে বলে সুধিমহলের অভিমত।

ঠাকুরগাও-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক মোঃ ইয়াসিন আলী বলেন, এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করে নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনা যায় কিভাবে সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
কুইক নিউজ বিডি.কম/আনোয়ার হোসেন আকাশ/