১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:২২

আইনী লোকের বে-আইনী কাজ ঠেকাবে কে!

রাণীশংকৈল থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ: ঠাকুরগাও জেলার রাণীশংকৈল হরিপুরে বাল্য বিয়ের মহোৎসব চলছে। অমান্য করা হচ্ছে সরকারি আইন নিয়মনীতি। বাল্য বিবাহ রোধে সরকারি লোকজন কার্যকরী কোন ভূমিকা গ্রহণ করছেন না। আইনের লোক নিজেই বাল্য বিয়ে করে সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসেই রাণীশংকৈলের নেকমরদ ভবানন্দপুর গ্রামে রাতে বসে বাল্য বিয়ের আসর। কনের আসনে নেকমরদ পীর শাহ নেয়ামতুল্লাহ মাজার মসজিদের খাদেম’র নাবালিকা মেয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী নাসরিন আক্তার (১৪)। বর সেজে এসেছে হরিপুর উপজেলার মশানগঁওয়ের মোঃ শহীদের ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে যশোর সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টে চাকুরীরত। চাকুরীর বয়স ৪ বছর।

বিষয়টি অবগত হলে সংবাদকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ নাহিদ হাসান, কাজী মাকসুদুর রহমান ও নেকমরদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হককে অবহিত করেন। কয়েকজন সংবাদকর্মী বিয়ের আসরে ছুটে যান। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ সটকে পড়ে। সংবাদ কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসলে পুনরায় বরপক্ষ বিয়ের আসরে ফিরে আসে। বিবাহ রেজিষ্ট্রি না করে মুন্সি দ্বারা বিয়ের কাজ সম্পাদন করেন। বরপক্ষ ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক আদায় করে।

এ ব্যাপারে মেয়ের বাবা খমিরুদ্দিনকে মুঠোফোনে জানানো হলে, তিনার মেয়ের বিয়ে হয়নি বলে জানান। তাছাড়া বিয়ের আসর থেকে পুলিশ কর্মকর্তার নাম বলে সংবাদকর্মীদের সাথে আপত্তিকর আচরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীদের কৌতুহল বাড়তে থাকে।

৮ই এপ্রিল বিকালে নাসরিন লোকচক্ষু আড়াল করে অটোযোগে একাকি শ্বশুরবাড়ি যায়। সংবাদকর্মীরা বিষয়টি নজরে রাখেন।

১৫ই এপ্রিল বিকালে বরপক্ষের এলাকাবাসির তথ্যমতে সিরাজুল-নাসরিনের বিয়ে ও শ্বশুরালয়ে নাসরিনের অবস্থানের সত্যতা পাওয়া যায়। সিরাজুলের বাড়িতে উপস্থিত হলে বর-কনের উপস্থিতি গোপন রেখে বরের ভাবি ও আপন ফুফা একজন সাবেক সেনা সদস্য সংবাদকর্মীদের উপর  চড়াও হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই দিন রাতে মেয়ের মামা ইউনুস সংবাদকর্মীদের কাছে আর্থিক লেনদেনের কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সংবাদকর্মীরা আরো ক্ষুব্ধ হন। গোপনে মেয়ের মামা ইউনুস মেয়েকে শ্বশুর বাড়ি থেকে পিত্রালয়ে নিয়ে আসে। ১৭ এপ্রিল জামাই সিরাজুলকে শ্বশুর খমিরউদ্দিনের বাড়িতে দেখা যায়।

২০ এপ্রিল এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সে শ্বশুরবাড়ি অবস্থান করছিল। তিনারা সংবাদকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকী দেয়। একজন সেনা সদস্য ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের বিনিময়ে বাল্য বিয়ে করেছে বিষয়টি সুধিমহলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনের লোক বেঅইনী করলে তাদের ঠেকাবে কে ! এসব লোকের কি হবেনা বিচার এমন নানা প্রশ্ন সচেতন মহলের।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/২০.০৪.২০১৬/১৫:৪২