১৭ই জুন, ২০১৯ ইং | ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৫০

খাগড়াছড়িতে র‌্যালি আর জলকেলিতে মেতেছে সাংগ্রাইং উৎসব

খাগড়াছড়ি থেকে চাইথোয়াই মারমা: ’সাংগ্রাইংমা ঞি-ঞি-ঞা-ঞা রিকেজেপ্যা পামি” প্রতিপাদ্য বিষয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা রং লেগেছে পাহাড়ে র‌্যালি আর জলকেলিতে মেতে উঠেছে পার্বত্যবাসীর খাগড়াছড়ি-রাংগামাটি-বান্দরবান। শহরে নেচে-গেয়ে বড়-ছোট গাড়িতে ভর্তি করে ছেলে-মেয়েরা হুই-হুল্লায় একে অপরকে পানি ছিতিয়ে আনন্দে মেতে উঠে।

বৃহষ্পতিবার সকালে মহান সাংগ্রাইং উদযাপন উপলক্ষে সরকারী মহিলা কলেজ সংলগ্ন গোলাবাড়ী যুবকদের উদ্দ্যোগে ’রিলং পোয়ে(জল উৎসব) অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদযাপন কমিটির আহবায়ক থোয়াইহ্লাপ্রু মারমা সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের উপদেষ্ঠা ম্রাসাথোয়াই মারমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম ক অঞ্চলের খাগড়াছড়ি সম্নয়ক চাইথোয়াই মারমাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীরা। এসময় ঢাকা ইউনির্ভাসিটি টুরিষ্ট সোসাইটি আয়োজনে পর্যটন শিল্প বিকাশে চাই সামাজিক আন্দোলন” শ্লোগানে শুভ নববর্ষ ও বৈসাবি উৎসব-২০১৬খ্রিঃ শিক্ষাই আলো প্রদিপাদ্যে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের নেচে-গেয়ে অংশ গ্রহনে প্রানবন্ত করে তোলে। ১লা বৈশাখ বাংলা ১৪২৩ বাঙ্গালী জাতির প্রাণের উৎসব। পহেলা বৈশাখকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কাব্য-কবিতা। হালখাতা ও গ্রাম্য মেলা, পহেলা বৈশাখের বাড়তি মাত্রা যোগ করে। এই দিনটি বাঙ্গালী জাতির প্রাণের উৎসব হলেও পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীরা এ উৎসব’কে বৈসু-সাংগ্রাইং-বিজু-বিসু-বিহু নামে ডাকে। চৈত্রের শেষদিন বর্ষ বিদায় আর বৈশাখের প্রথম দিনটি ভিন্ন আমেজে পালন করে এখানকার অদিবাসীরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠিগুলোর প্রধান সামাজিক ও জাতীয় উৎসব বৈসাবি অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে পাহাড়ে সপ্তাহব্যাপী শুরু হয়েছে নানান কর্মসুচি। এখানকার মূলত: প্রধান ৩টি জাতি গোষ্ঠি চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের নিজস্ব ভাষায় ১লা বৈশাখ বা চৈত্র সংক্রান্তিকে ত্রিপুরা ভাষায় “বৈসু” মারমা ভাষায় সাংগ্রাইং এবং চাকমা ভাষায় “বিজু” নামে অভিহিত করা হয়। আর এ তিন নামের আদ্যাক্ষর দিয়েই হলো(বৈসু-সাংগ্রাইং-বিজু) বৈসাবি উৎসব। এবছর পাহাড়ের মানুষ যেন স্বাচ্ছন্ধ্যে এ উৎসব পালন করতে পারে তাই প্রথম বারের মত সরকারী ভাবে দেয়া হয়েছে বৈসাবি ভাতা, ঘোষণা করা হয়েছে ২দিনের সরকারী ছুটি। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলা বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি’র বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মারমা আদিবাসীদের সাংগ্রাইং উৎসব উপলক্ষে জেলা সদরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়েছে। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের পানখাইয়া পাড়া এলাকা থেকে বের হয়ে গুরুত্বপর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পানখাইয়া পাড়া গিয়ে শেষ হয়। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারমা উন্নয়ন সংসদ ও মারমা যুব কল্যাণ সংসদের আয়োজনে এ বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে দুপুরে জলকেলী উৎসবের মেতে উঠে। এ সময় পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স ম মাহাবুল আলম এসজিপি পিএসসি, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম (সেবা), মারমা উন্নয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা, প্রেস ক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, সাংগ্রাইং উৎযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবুশি মারমাসহ শোভাযাত্রায় শত শত মারমা তরুণ, তরুণী, শিশু, কিশোর, কিশোরী বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

এ দিকে সাংগ্রাইং উপলক্ষে মারমা উন্নয়ন কল্যাণ সংসদ ও মারমা কল্যাণ সংসদ এর আয়োজনে খাগড়াছড়িতে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, ধ, আলারী, রি আকাজা, ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্ত সাংস্কৃতিক প্রদর্শণ ও ওপেন কনসার্ট, ধর্মীয় উৎসব পলন, মারমাদের ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অন্যদিকে বৈসাবি উপলক্ষ্যে পাহাড়ের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে পানি খেলা, আ-লা-রি, ধ, মাগ্রং, রশি টানা সহ বিভিন্ন পাহাড়ি খেলা। আগামী ১৭এপ্রিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যদিয়ে শেষ হবে বৈসাবি’র আমেজ। তবে অধিকাংশ আদিবাসী পল্লীতে বৈসাবি কর্মসূচী মাসব্যাপী আয়েজন চলবে ।

এর আগে আদিবাসীদের বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয়ে সোমবার চেংগী নদীতে চাকমা সম্প্রদায়ে ফুল ভাসানো, মংগলবার খাগড়াপুরে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গরয়া নৃত্য প্রদর্শন, বুধবার পানখাইয়া পাড়া মঙ্গল শোভা যাত্রা র‌্যালী শেষে মারমা উন্নয়ন সংসদ মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উপর গান ও নৃত্যের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় উৎসবে একমাত্র ঐতিহ্যবাহি মারমা পানি খেলা উৎসব। ঐতিহ্যবাহী পানি খেলায় সকাল থেকে মারমা উন্নয়ন সংসদ মাঠে শত শত বিভিন্ন বয়সে তরুন তরুনী নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে ।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/১৪.০৪.২০১৬/২২:০৪

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial