২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:৪০

টাকা না দিলেই ইউপি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র অবৈধ

সুজন সেন, শেরপুর প্রতিনিধি: আগামী ৭ মে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ছিল গত ১১ এপ্রিল। অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইগাতী, হাতিবান্ধা ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটানিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একেএম জালাল উদ্দিন উল্লেখিত ইউনিয়নের একাধিক চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর কাছ থেকে তাদের মনোনয়নপত্র অবৈধ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মাহবুব আলী জানান, আমার মনোনয়ন বৈধ হলেও নির্বাচন কার্যালয়ের ছানা নামে এক কর্মচারি(পিয়ন) আমাকে ফোন করে বলেন যে- আপনার মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর মিলছে না স্যারের (এ কেএম জালাল উদ্দিন) সাথে দেখা করেন। পরে তিনি তার কথা মতো দেখা করে জানতে পারে ১ হাজার টাকা দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে অন্যথায় মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়ে যাবে। অগত্যা ওই মেম্বার প্রার্থী তার প্রার্থীতা বৈধ করার জন্য ছানার মাধ্যমে উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তাকে ১ হাজার টাকা প্রদান করতে বাধ্য হয়। একই ভাবে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে অসংখ্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর কাছে ফোন গেলে বাধ্য হয়েই প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্রের বৈধতা রক্ষা করেন ’নগদ নারায়ন’র মাধ্যমে। এমন অভিযোগকারীর মধ্যে হাতিবান্ধা ইউনিয়নের বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা, ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ৫ হাজার, একই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জয়নালের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকার মাধ্যমে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ রাখেন। মেম্বার প্রার্থী জয়নাল জানায়, মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে টাকার জন্য আমার হালের গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাতিলে যেসব প্রার্থীর কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়েছে তাদের মনোনয়নপত্রে সামান্য নামের বানান, স্বাক্ষর সঠিক না থাকা, সঠিক স্থানে স্বাক্ষর না থাকা ইত্যাদি ভুল ছিল। আবার অনেকের আয় ও ব্যয়ের অংক না মেলায় তার মনোনয়নপত্র অবৈধ হলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পিয়ন ছানা জানান, ওই অভিযোগগুলো সব ভিত্তিহীন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একেএম জালাল উদ্দিন বলেন, এসব ভুয়া অভিযোগ দিয়ে কাজ হবে না। আপনারা নিউজ করতে চাইলে করেন, কোন অসুবিধা নাই।

কুইকনিউজবিডি.কম/নাঈম/১৩-০৪-২০১৬/সময়ঃ১১:৩১