২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:২৫

আরেকটি স্বপ্নপূরণ মাশরাফির

কালো টি-শার্টের সঙ্গে খাকি রঙের প্যান্ট। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে দেখে মনে হবে রুপালি পর্দার শক্তিমান কোনো নায়ক।
নায়কই তো! দেশের অযুত-নিযুত তরুণের হৃদয়ে মাশরাফির স্থান নায়ক হিসেবেই। এই তরুণদের নিয়ে কাজ করার দারুণ এক সুযোগ এসেছে বাংলাদেশ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের সামনে। আর সুযোগটা করে দিয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
মাশরাফি ইউএনডিপির শুভেচ্ছাদূত হতে যাচ্ছেন, জানা গিয়েছিল আগেই। যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি ছিল, কাল রাজধানীর একটি হোটেলে সারা হলো সেটিও। মাশরাফি তরুণদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখছেন বহুদিন থেকে। সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাওয়ায় খুশির রেখা অধিনায়কের মুখে। মাঠে যেমন নিজেকে উজাড় করে দেন, এ ক্ষেত্রেও শতভাগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির, ‘আমার কাছে এটি স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতোই। চেষ্টা করব সেরাটা দেওয়ার। আমাদের তরুণদের প্রতি আমার প্রবল বিশ্বাস আছে। এই তরুণেরাই উন্নয়নশীল দেশ থেকে বাংলাদেশকে একদিন উন্নত দেশে পরিণত করবে।’
এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে কোনো খেলোয়াড়কে শুভেচ্ছাদূত করল ইউএনডিপি। এর আগে সাকিব আল হাসান শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন জাতিসংঘের আরেক সংস্থা ইউনিসেফের। উপমহাদেশে মাশরাফির আগে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, শহীদ আফ্রিদি ও মুত্তিয়া মুরালিধরন। তিনজনই ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের দূত। ইউএনডিপির বৈশ্বিক দূত হচ্ছেন রুশ টেনিস তারকা মারিয়া শারাপোভা।
দূত হিসেবে মাশরাফির কাজ হবে কী? সেটি ব্যাখ্যা করে ইউএনডিপির আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস বললেন, ‘মাশরাফি মূলত তরুণদের জানাবেন, কীভাবে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এটা করতে চাই। তথ্যপ্রযুক্তি এমন এক খাত, যেখানে তরুণদের আধিপত্য।’
এমনিতে বছরজুড়েই ক্রিকেটারদের ব্যস্ত সূচি। রাজ্যের এই ব্যস্ততার মধ্যে মাশরাফি কতটুকু সময় দিতে পারবেন এই উদ্যোগে, সেই প্রশ্নও উঠল। জবাবে অধিনায়ক অবশ্য আশ্বস্তই করলেন, ‘ক্রিকেট খেলার পরও অনেক সময় থাকে। তখন এটা করতে পারব। মনে হয় না খুব কঠিন হবে।’
মাঠে যেমন মাশরাফির লক্ষ্য থাকে শুধু জয়, এ ক্ষেত্রেও তা-ই। সফল হতে চান এই উদ্যোগেও। বাংলাদেশ অধিনায়ক বললেন, ‘দেশের তরুণেরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ উদ্যোগটা যদি তরুণদের কাজে লাগে, দেশটা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
তারুণ্যে কতটা আস্থা, মাশরাফির কথাতেই স্পষ্ট। দেশের তরুণেরাও নিশ্চয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে অধিনায়কের দিকে।