১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:২১

ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ, থানায় মামলা

কুইকনিউজবিডি.কম, নিউজ ডেস্কঃ  ফাইল ছবিচুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মনি সিংসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক      ( দায়িত্বপ্রাপ্ত) মেরিনা জেবুন্নাহার বাদী হয়ে গতকাল সোমবার রাতে দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলাটি করেন।মামলার অন্য তিন আসামি হলেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোটিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সাত্তার, ক্রয় বিশেষজ্ঞ আইয়ুব হোসেন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং এর ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইসিটি ব্যবস্থাপনা শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) লিয়াকত হোসেন জানান, দণ্ডবিধির ৪০৬/৪১৮ ও ৪২৭ ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও পরীক্ষাগার (অফিস কাম ল্যাবরেটরি) ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণাধীন ওই ভবনের লুপ ঢালাইয়ে রড না দিয়ে কাটা বাঁশ (কাবারি বা চটা) এবং খোয়ার পরিবর্তে পরিত্যক্ত সুরকিসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফাইটোসেনেটারি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের পরিচালক (উইং) সৌমেন সাহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গত শুক্রবার সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে প্রকল্পের সাইট প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান  বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা জানান, বিদেশ থেকে আসা কৃষিজাত পণ্যের মান ও রোগ-বালাই যাচাইয়ের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্ল্যান্ট প্রোটেকশন উইং এই ভবনটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে জয় ইন্টারন্যাশনাল নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি নির্মাণ করছে এবং ঢাকার শেওড়াপাড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট লিমিটেড (ইসিএল) কাজটি তদারকি করছে। গত বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা।
ইসিএলের ঢাকা কার্যালয়ের প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম  বলেন, ‘ভবনটির ভিত্তি, গ্রেড বিম, বিম ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ আমি নিজে তদারকি করেছি। সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে ভবনের লুপ ঢালাইয়ের কাজটি সঠিক ডিজাইন অনুযায়ী হয়নি। লুপে চিপসের পরিবর্তে সুরকি ব্যবহার ঠিক হয়নি। সবাই মিলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিষ্ঠানটির উপসহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আমি ছুটিতে ছিলাম। ওই সময়ে মিস্ত্রিরা এই অনিয়ম করেছেন।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক নির্মল কুমার দে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রডের পরিবর্তে বাঁশের চটা ব্যবহারসহ অনিয়ম করা হয়েছে। এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের গাফিলতি রয়েছে। মহাপরিচালককে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশে নির্মাণকাজ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত রোববার ইউএনও স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ এপ্রিল ‘দর্শনা উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের দোতলা ভবন নির্মাণে দুর্নীতি, রডের বদলে বাঁশের কাবারি দিয়ে ঢালাই’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ওই দিনই সকাল নয়টার দিকে তিনি (ইউএনও), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে নির্মাণাধীন ওই ভবনের লুপ ঢালাইয়ে রড না দিয়ে কাটা বাঁশ (কাবারি বা চটা) এবং খোয়ার পরিবর্তে পরিত্যক্ত সুরকিসহ নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে—এ বিষয়ে​র সত্যতা পাওয়া গেছে।

তারিখ: ১২-০৪-২০১৬/কুইকনিউজবিডি/রাকিব/ সময়:11:44