১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:১০

গোপালগঞ্জে ওড়াকান্দি ইউনিয়নে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা

গোপালগঞ্জ থেকে এম শিমুল খান: গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে জোরালো ভাবে জনসংযোগ ও ভোট চাওয়ার দৌড়ে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী জহির রায়হান পলাশ। এছাড়াও এ ইউনিয়নে রয়েছে ১জন মহিলাসহ ৪জন স্বতন্ত্র প্রার্থী তারা হলেন, বদরুল আলম বিটুল, মো: আক্কাস আলী আকা, দুল মিয়া, ছিকু মিয়া ও হেলেনা বেগম হেনা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতিক   বরাদ্দের সাথে সাথে এ ৬জন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জোরালো ভাবে। ইতিমধ্যে দলীয় ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা তাদের প্রতিক সম্বলিত পোস্টার, লিফলেট ছেপে ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশে যোগ দিয়ে তাদের প্রার্থীতার পক্ষে জনসমর্থন ও ভোট আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জনপ্রিয়তা প্রমাণে ব্যাপক ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটের পাশাপাশি তারা ভোটারদের কাছে দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করে চলছেন।

কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নে জমে উঠেছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট বাজারে, চায়ের ষ্টলে চলছে প্রার্থীদের সম্পর্কে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সাধারন ভোটাররা এবার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের নানা দিক বিচার বিশ্লেষন করে তারা তাদের মনোনীত ব্যাক্তিকে ভোট প্রদান করবেন বলে জানান কাশিয়ানী ওড়াকান্দি ইউনিয়নের সাধারন ভোটাররা।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দি ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জহির রায়হান পলাশের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে আমার ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সমস্যা, রাস্তা-ঘাটের সমস্যা, সুপেয় পানির সমস্যাসহ ইউনিয়নের সকল ধরনের সমস্যার সমাধান করবো। তিনি আরো বলেন আমার প্রানপ্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আমার সংসদ সদস্য আমার নেতা লে. কর্ণেল (অব:) ফারুক খানের সহযোগীতায় আমি কাশিয়ানীর ওড়াকান্দি ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসাবে রুপ দেব। আমি আমার ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্দী, বিধবা ও বয়স্ক মহিলাদের সাহায্যে সহযোগীতা করবো। যুব সমাজকে মাদকের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে তাদের সুস্থ জীবনে ফেরত পাঠাবো। আমি বিগত দিনে এ ইউনিয়ন বাসীর পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষতেও থাকবো। আমার শেষ কথা হচ্ছে আমি কাশিয়ানীর ওড়াকান্দি ইউনিয়নকে একটি আলোকিত ইউনিয়ন হিসাবে তৈরী করবো।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী ওড়াকান্দি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বদরুল আলম বিটুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি আওয়ামীলীগের বাইরের কেউ নই শুধু মাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী ও প্রশাসন আমাকে বা আমার সমর্থকদের কোন নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাতে বাধা দিচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠ হয় তাহলে ইউনিয়ন বাসীর ভোটে আমি চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হব। আমি চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে সকল ধরনের উন্নয়ন মুলক কাজ করবো। আমি ইউনিয়ন বাসীকে সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করতে চাই। আমি আমার এ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন করবো। আমি এ ইউনিয়নে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। আমি গরীব-দু:খি, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের সেবা করে যাব। এলাকার মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে আমি প্রাধান্য দেব কোন ভাবেই তাদের বঞ্চিত করবো না। প্রয়োজনে আমার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করবো।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী ওড়াকান্দি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলেনা বেগম হেনা বলেন, আমি এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের উন্নয়নে যথাযথ ভাবে কাজ করে যাব। সরকারি সাহায্য ছাড়াও আমি নিজে আর্থিক ভাবে ইউনিয়নের উন্নয়ন কল্পে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেব। মাদক সমাজের একটা ব্যাধি সে কারনে আমি এ ইউনিয়ন থেকে মাদক নির্মূল করবো। ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য আমি আমার জীবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে কাজ করে  যাব। আমার শেষ কথা আমি নিজের জন্য অনেক যুদ্ধ করেছি এবার আমার যুদ্ধ মা, মাটি ও সাধারন মানুষের জন্য।

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী ওড়াকান্দি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: আক্কাস আলী আকা বলেন, আমি যদি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারি তাহলে আমি ইউনিয়নের উন্নয়নের ব্যাপারে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ করবো। আমি ইউনিয়ন বাসীকে সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে কাজ করতে চাই। আমি আমার এ ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন করবো। আমি এ ইউনিয়নে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এ ইউনিয়নে সঠিক নেতৃত্বের অভাব আছে, এ ইউনিয়নে টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি হয়ে যায়। সাধারন ভোটাররা তাদের প্রকৃত সম্মান পায় না। আমি চাই আগামী নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ হোক এবং প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ যেন এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/১০.০৪.২০১৬/১৭:৪০