২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:১৫

রাণীশংকৈলে আড়াই মন গমে ১ কেজি ইলিশ

রাণীশংকৈল থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ: ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈলে আড়াই মন গমের দামে ১ কেজি ইলিশ বিক্রী হচ্ছে। নতুন বছরের বৈশাখ বাঙ্গালী জাতির দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। বর্ষবরনে পান্তা-ইলিশ বাঙ্গালী জীবনে সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বছরের প্রথম প্রহর রব রব সাজে মহা আনন্দে মেতে উঠে পুরো রাণীশংকৈল।

নবাব শায়েস্তা খাঁর আমলে নাকি ১ টাকায় ৮ মন চাউল পাওয়া যেত। সে নবাবী আমল চলে গেছে। বলে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। এখন ১ কেজি ইলিশ মাছ কিনতে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে আড়াই মন গম  অথবা সাড়ে ৪ মন ধান বিক্রীর টাকা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও উপজেলার প্রতিটি বাজারে ইলিশের দাম ও  গম/ধানের দামের এই চিত্র পাওয়া যায়।

চলতি বাজারে গম ধানের দাম কম থাকলেও ইলিশের দাম চড়া। বৈশাখের খর তাপদাহ অগ্নি উত্তাপ যেন ইলিশের মাঝে বিরজমান। মাঝারী সাইজের ১ কেজি ইলিশ ১৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হচ্ছে। শত কষ্ট হলেও পহেলা বৈশাখে পান্তা ভাতের সাথে একটি ছোট টুকরা ইলিশের ভাজা খেতে হবে। তাই ইলিশ না কিনে উপায় নাই বাড়ির কর্তার। এদিকে এক কেজি গোশ্ত কিনতে প্রায় ৪০০ টাকা লাগে। একমন ধান বিক্রী করে ৩৫০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে যাতে করে এক মন ধান বিক্রী করে ১ কেজি গোশ্ত পাওয়া যাচ্ছেনা। বর্ষবরণ উপলক্ষে ইলিশের প্রচুর চাহিদা থাকায় হুড় হুড় করে দাম বেড়ে চলেছে। বর্ষবরণে ইলিশের চাহিদা থাকায় কর্তাকে আড়াই মন গমের দামে বাধ্য হয়েই ১ ইলিশ কিনতে হচ্ছে।

কয়েকজন ইলিশ ক্রেতার সাথে কথা বলে জানান, বৈশাখ এমন একটি সময় এ সময়ে ইলিশকে বাঙ্গালী জীবনে উৎসবের মত গ্রহণ করা হয়। আমরা সারা বছর ইলিশ খেলেও এ সময় ইলিশ খাওয়ার মজাই আলাদা।

বৈশাখ উৎসব বাঙ্গালী জীবনে আবাল বৃদ্ধ থেকে শুরু করে কোলের শিশুটিও এর আনন্দ হাত ছাড়া করতে রাজি না। বৈশাখে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ ভাজার যেন কোন জুড়ি নাই। শত কষ্টের মাঝেও বৈশাখের আনন্দ উল্লাসের ভাগিদার হতে চায় খেটে খাওয়া মানুষটিও। এমন প্রত্যাশায় ইলিশের চাহিদার উপর সুযোগ নিয়ে চড়া দাম হাতিয়ে নিচ্ছে ইলিশ বিক্রেতারা।

বাঙ্গালি ঐতিহ্যকে ঘিরে এই সময় ইলিশ কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। আবার ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও বেশি দাম থাকায় ইলিশ কিনতে না পেরে চোখে মুখে হতাশার ছাপ দেখা যায় নি¤œ আয়ের মানুষের।

চাহিদানুযায়ী ইলিশের সরবরাহ সঠিকভাবে না থাকায় এক সপ্তাহের মধ্যে চারগুন দাম বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েই চলেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। দাম আরো বেশি বাড়ার আশংকায় অনেকেই আগে থেকে ইলিশ কিনে রাখছে।

রাণীশংকৈল পুরাতন বাজারে বড় সাইজের ইলিশ সরবরাহ না থাকলেও আধা কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ১৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রী হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২০০০-২২০০ টাকা বলে এক মাছ ব্যবসায়ী জানান। এদিকে গমের দাম ৬৫০-৭০০ টাকা হওয়ায় আড়াই মন গমের দামে ১ কেজি ইলিশ কিনতে হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী জাহিরুল বলেন, দুই মাস ইলিশ ধরা বন্ধ আছে। বর্তমানে ডিম দেয়ার সময় তাই মাছ ধরা নিষেধ আছে। চাহিদার তুলনায় মজুদ কম হওয়ায় ইলিশের দাম বেশি।

বাংলাদেশ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন পরিষদ প্রেসিডেন্ট আবু বকর সিদ্দীক জানান, বছরে প্রায় ৪ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সারা বছর ধরে ২ হাজার টন বিক্রী আর ২ হাজার টন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিক্রী করা হয়।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/১০.০৪.২০১৬/১৬:১০