১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:২৯

রাণীশংকৈলে পুলিশের মামলায় বাড়ী ছাড়া সংখ্যালগুরা

রাণীশংকৈল থেকে আনোয়ার হোসেন আকাশ: ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১ মার্চ ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ভোট গ্রহণ শেষে ৭নং রাতোর ইউনিয়নে ভোট গণণাকে কেন্দ্র করে প্রিজাইডিং অফিসারকে লাঞ্চিত করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসআই আব্বাস বাদী হয়ে ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩৪১/৩৫৩/৩৩২/৪২৭ ধারামতে থানায় মামলা করেন। এ মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের ধরাছোয়ার বাইরে রেখে আসামী করা হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্নের স্বপক্ষের সংখ্যালগুদের বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘর ছাড়া হয়ে পড়েছে এলাকার সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের লোকজন ও রাতোর ইউনিয়নের সাধারন মানুষরা। তাদের অভিযোগ আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে পুলিশ। রাত আসলেই পুলিশ আতংকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।

প্রতক্ষ্যদর্শীরাসহ আনোয়ারুল, পানঠু কুমার, আলন জানান, ৩১ মার্চ ভোট গণণা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার মোঃ গোলম মোস্তফা, হায়দার আলী মোরগ প্রতিকে ৪৩২ ও সুভাষ বল প্রতিকে ৪১৬ ভোট প্রাথমিক ভাবে ফলাফল ঘোষনা করেন। এতে অপরপ্রার্থীর বল প্রতিকের এজেন্ট তসলিমের সন্দেহজনক মনে হলে প্রিজাইডিং অফিসারকে পুনরায় ভোট গণণার আবেদন জানান। পুনরায় গণনার  সময় তিন শত ব্যালট গণণায়মোরগ প্রতিকের ১০টি ভোট কমে আসে সে সময় মোরগ প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট ভোট গননা বন্দের জন্য উত্তপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। সে সময় বাকি ভোটগুলো গণণার দাবি জানালে প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলায় সব ভোট গণণা করা হবে বলে জানান বলে অভিযোগ উঠে। তাৎক্ষনিকভাবে ফলাফল ঘোষনা করার জোর দাবি জানায় মোরগ প্রতিকের প্রার্থী  হায়দার আলীর লোকজন।

মোরগ প্রতিকের এজেন্ট আঃ হামিদ প্রিজাইডিং অফিসারের সাটের কলার ধরে টানা হেঁচড়া করে  ঘরের মধ্যে আটক রাখে। এক পর্যায়ে তার পক্ষের লোকজন পরিবেশ অশান্ত করে  টায়ারে আগুন লাগিয়ে আতংক ছড়ায়। গাড়ি ভাংচুর করে । বাঁশ কাঠ দিয়ে প্রশাসনের গতি রোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন হার্ড লাইনে অবস্থান নেন। লাঠি চার্জের আঘাতে আহত হয়ে মোরগ প্রতিকের সমর্থিত কর্মী হাবিল, আঃ হামিদ, সাহাবুদ্দিন, স্ত্রীসহ হায়দার আলী, খাদেমুল, মাজহারুল, আশরাফুল, সাদ্দম হোসেন, বাবুল, আব্দুলের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মহিলা আহত হয়। এরা সবাই ঠাকুরগাও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় । অন্যদিকে পুলিশ বল প্রতীকে লোকজনের উপরেই উল্টো মামলা করেন  এবং আসামী করেন মেম্বার প্রার্থী সুবাস,রতন, বিষ্ণ রায়সহ অজ্ঞাত অনেককে।

মামলার বাদি এসআই আব্বাসের সাথে মুঠোফোনে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে হাজার হাজার লোক ছিল সঠিক কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ৪ থেকে ৫ শত জন অজ্ঞাত নামা আসামী আছে প্রকৃত দোষি ছাড়া নির্দোষ লোককে হয়রান করা হবেন। অপরাধীদের অবশ্যই ধরা হবে।

ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক মোঃ ইয়াসিন আলী বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন কেউ যেন মামলার আসামী হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে ব্যাপারে ও বলা হয়েছে।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৯.০৪.২০১৬/১৯:২৩