২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:২৫

ঝিনাইদহের জনপদ ঘুর্নিঝড়ে লন্ডভন্ড, লাখ লাখ টাকার সরকারী গাছ লুট

ঝিনাইদহ থেকে থেকে জাহিদুর রহমান তারিক: ঝিনাইদহের চার উপজেলায় ৬ দিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার রাতে প্রচন্ড শিলা বৃষ্টির সাথে ঘর্নিঝড় আঘাত হেনেছে। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। ঝড়ে ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার কয়েক’শ গ্রাম লন্ডভন্ড হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সরকারী ভাবে তাদের পাশে দাড়ানো হয়নি। বুধবার পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধিও খোজ নেন নি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ থেকে তাৎক্ষনিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপন করতে পারেনি। তবে ঘন্টাব্যাপী ঝড়ে শত শত কাচ পাকা বাড়িঘর উড়ে গেছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতের লাইন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সদরের পশ্চিমাঞ্চল, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঝড়ে রাস্তায় বড় গাছ পড়ে ঝিনাইদহ যশোর মহাসড়ক এক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাস্তার ধারে সরকারী লাখ লাখ টাকার গাছ লুট হয়ে গেছে। ঝড়ের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়া গাছগুলো নিয়ে যওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন ভুৃমি অফিস ও বন বিভাগ উচ্চ বাচ্য করেনি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন জানান, মঙ্গলবার সাড়ে ৬টার দিকে প্রচন্ড গতিতে ঝড় শুরু হয়। সাথে ছিল শিলা বৃষ্টি। শিলা বৃষ্টিতে ধান ক্ষেতের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। মাঠের পর মাঠ কলা ক্ষেত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।

আম, কাঠাল, জাম, মেহগনি বাগানসহ বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে গেছে। মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম মনসাদ জানান, জীবনে এমন ঘুর্নিঝড় দেখা যায় নি।

ঝড়ে বংকিরা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ইউনুস, নজির, মোহাম্মদ আলী, বুড়ো ঠাকুর, টোকন বিশ্বাস, নাইমূল হক, আব্দুল হান্নান, সামাদ, গাদন আলী, শহিদুল, মোশাররফ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, মালেক, মশিয়ার, হুসিয়ার আলীসহ ৫০ জনের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের আনিচুর রহমান জানান, ঝড়ে তাদের গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের ক্ষতি হয়েছে। কোটচাঁদপুরের দোড়া ইউনিয়নের নবাগত ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম জানান, লক্ষিপুর ও মল্লিকপুর গ্রামে শতাধীক বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। ছোট বড় গাছপালা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, ঘারবাড়ির পাশাপাশি গাছপালা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। কোচাঁদপুরে উপজেলার এলাঙ্গী মাটের মধ্যে ৩৩ ভোল্রে দুইটি টাওয়ার ভেঙ্গে পড়েছে। কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন শিবনগরে একটি ট্রান্সমিটার সহ বিদ্যুতের পোল ভেঙ্গে পড়েছে। যে কারনে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কালীগঞ্জ, কোটচাদপুর ও মহেশপুর উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে রয়েছে। ঝড়ে হাজার টিনশেড, আধা পাকা ঘর, লক্ষ লক্ষ গা ভেঙ্গে গেছে। ঝড়ের সাথে শিলা পড়াই হাজার হাজার একর জমির ধান, পাট, কলা, কলাই, তিলসহ বিভিন্ন ফসলের মাটির সাথে মিশে গেছে। মারা গেছে শত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। ঝড়ে গাছ ও ঘর চাপা পড়ে কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়েছে। মহেশপুর ফতেপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, তার গ্রামের রফিকুল ইসলামের ৫ বিঘা কলার ক্ষেত পুরোটাই উপড়ে গেছে।

কালীগঞ্জের নরেন্দ্রপুর গ্রামে শিলা ঝড়ে তার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার জানান, জেলার কয়েকটি উপজেলায় ঝড় হয়েছে। আমি খবর পেয়ে ঝড় কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছি। ঝড়ে রাস্তার উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া কাচা আধাপাকা বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎক্ষনিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আকরামুল হক, জানান, গত ৩০ মার্চ ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচন্ড ঝড়ে তিনশ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবারো ঝড়ে আঘাত হানলো। তিনি বলেন আমি খবর পেয়েছি ঝিনাইদহের পশ্চিমে ও কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর এবং মহেশপুরে ঝড়ের সাথে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। এই ঝড়ে ধানসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম যুবরাজ চন্দ্র পাল জানান, ৩০ মার্চে ঝড়ের ক্ষতিই এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার উপর মঙ্গলবারের ঘুর্নিঝড়ে জেলার ৪টি উপজেলার বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে গোটা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৭.০৪.২০১৬/২০:৪৬