১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৪০

ঝিনাইদহের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হত্যার হুমকীতে দৌড়ের উপর

ঝিনাইদহ থেকে থেকে জাহিদুর রহমান তারিক: ঝিনাইদহের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা রাজনৈতিক চাপ, হত্যার হুমকী ও দলীয় ক্যাডারদের ভয়ে দৌড়ের উপর রয়েছে। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোাঁজা হচ্ছে। অনেকের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঝিনাইদহের সুরাট ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুলসহ তিন জনের মনোনয়নপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার হরিণাকুন্ডুর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাবে বোমাবাজী করা হচ্ছে। এদিকে কালীগঞ্জের বারোবাজার ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থীকে পাশ করানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র, জাতীয়পার্টি ও বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে অচেনা লোক পাঠানো হচ্ছে এবং আত্মীয় সজনদের মারধর করা হচ্ছে। কালীগঞ্জের জামাল ইউনিয়নে কোন প্রার্থী খুজে পাওয়া যায় নি। বারোবাজারে এক ইউপি মেম্বর মনোনয়ন জমা দিয়ে ক্যাডারদের ভয়ে নিখোঁজ ছিলেন।

নির্বাচনী মাঠে প্রার্থীরা অসহায় হলেও কালীগঞ্জের পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন ঠুটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। এদিকে বুধবার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সর্বার্ধিক ৭ চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ৩য় ধাপের ইউপি নির্বাচনে কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৯ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় ৫ নং সিমলা রোকনপুর ও ৭ নং রায়গ্রাম ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। ২ নং জামাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোদাচ্ছের হোসেনের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৮টি ইউনিয়নে মোট ২৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে কোন ইউনিয়নে জামায়াতের কোন প্রার্থী খুজে পাওয়া যায় নি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ নং সুন্দরপুর দূর্গাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওহিদুল ইসলাম, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াস রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলী খান (লিটন) (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ ইউনিয়নে ব্যাপক জনপ্রিয় থাকার পরও মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলিনুর রহমান। তার বাড়িতে কয়েক দিন আগে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত আলীও মাঠে দাড়াতে না পেরে সরে পড়েছেন।

২ নং জামাল ইউনিয়নে নির্বোচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য কোন প্রার্থী পাওয়া যায় নি। ফলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোদাচ্ছের হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

৩ নং কোলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আয়ূব হোসেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম ছরোয়ার প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী রিংকু ঘোষ তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।

৪ নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রাজু আহম্মেদ (রনি লস্কর), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান মিলন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদুল হক লিটন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।

৬ নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলী শেখ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

৮ নং মালিয়াট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আজিজুর রহমান খান, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মজিদ শেখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা শুকুর, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকরামুল হক (বিএনপি বিদ্রোহী) ও শাহিনুর রহমান (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

৯ নং বারোবাজার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ ইউনিয়নে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে বসাতে তার বাড়িতে ঘন ঘন সন্ত্রাসীদের পাঠানো হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বারোবাজার ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদ ইকবাল শিপন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।

১০ নং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আয়ূব হোসেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তরিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

১১ নং রাখালগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মহিদুল ইসলাম, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসমাইল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেন (আ’লীগ বিদ্রোহী) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ইদ্রিস আলী তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় ৫ নং সিমলা রোকনপুর ও ৭ নং রায়গ্রাম ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি প্রার্থীদের হুমকী ও নির্বাচনে কতিপয় মহলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, এ বিষয়ে কেও সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৭.০৪.২০১৬/২০:৪০