২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:১৮

ঘুরে দেখুন সৈকত সংলগ্ন আরও অনেক দর্শনীয় স্থান

বেড়ানো পর্ব-০২

কক্সবাজার থেকে এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন: কক্সবাজার পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত। প্রায় ২৪৯১.৮৬ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবান জেলা এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য ও নাফ নদী এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া শুধু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এমন দৈর্ঘ্যরে সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাই এই কক্সবাজার আমাদের দেশের অন্যতম গর্বের বিষয়। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কক্সবাজারে সৈকত সংলগ্ন আরও অনেক দর্শনীয় এলাকা রয়েছে যা পর্যটকদের জন্য প্রধান আকর্ষণের বিষয়। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই কয়েকটি পাঁচতারা হোটেল রয়েছে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট।

সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে বার্মিজ মার্কেট। আমাদের দেশের নানা ধরনের পোশাক, উপহার সামগ্রী ও ঘর সাজানোর পণ্যও কিনতে পাওয়া যাবে। সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:-

কলাতলি মোড়ে জ’ভাস্কর্য্য : কলাতলি চৌ-রাস্তার মোড়ে শৈল্পিক সৌন্দর্য নিয়ে স্থাপন করা জ’ভাস্কর্য। শহরে প্রবেশের দ্বার প্রান্তে স্থাপিত এই ভাস্কর্যে দেখতে পাবেন সামুদ্রিক সার্ক। সত্যি পর্যটক সহ স্থানীয়দেরও মুগন্ধ করছে এই স্থাপনাটি।

রাডার ষ্টেশন: হিলটপ সার্কিট হাউসের দক্ষিণ পাশের চূঁড়ায় কক্সবাজার রাডার ষ্টেশনের অবস্থান। এখান থেকেই দেশব্যাপী ঝড়ঝাঞ্জা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়। রাডার যন্ত্রটি সুইডিশ শিশুকল্যাণ সংস্থা ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় ১৯৬৮ সালে স্থাপন করা হয়।

বদর মোকাম: শহরের কস্তুরাঘাট সংলগ্ন বদর মোকাম মসজিদটি সবচেয়ে প্রাচীন মসজিদ। স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি আছে পীর বদরশাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ তীরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পার্শ্বে মসজিদটি অবস্থিত।

হিলটপ সার্কিট হাউস: কক্সবাজার জেলা পরিষদ ভবনের পশ্চিম দক্ষিণে পাহাড়ের চুঁড়ায় মনোরম পরিবেশে হিলটপ সার্কিট হাউসের অবস্থান। অল্পক্ষণের জন্য হলেও ভারতের দার্জিলিং এর মত মনে হবে। এর চূঁড়া থেকে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ ও পর্যটন নগরীর টপভিউ অবলোকন করা সম্ভব।

লাইট হাউস: হিলটপ সার্কিট হাউসের দক্ষিণ পাশে রাডার ষ্টেশনের দক্ষিণে অপর একটি পাহাড়ের চূঁড়ায় এর অবস্থান। এই লাইটের সাহায্যে সমুদ্রে মাছধরারত জেলেরা দিক নির্দশন ছাড়াও লাইটের আলোয় নৌ-যান চলাচল করে।

আজগবি মসজিদ : প্রাচীন ঐতিহ্যখ্যাত ১৬০০-১৭০০ খৃষ্টাব্দে শাহ সুজার আমলে একটি মসজিদ তৈরী হয়েছিল। এটি চৌধুরী পাড়া মসজিদ বা আজগবি মসজিদ নামে পরিচিত। এটি কক্সবাজার সদরের বিজিবি ( সাবেক বিডিআর ক্যাম্প) ক্যাম্পের উত্তর দিকে অবস্থিত। প্রধান সড়ক এর পার্শ্বস্থ রাস্তা দিয়েই সহজে যাওয়া যায় এই মসজিদে। বাসটামির্ নাল থেকে শহরে আসা যাওয়ার পথে বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এটি চোখে পড়বে।
হ্যাচারী জোন:
কলাতলি জ’ভাস্কয্যের পাশেই আনবিক শক্তি কমিশন থেকে দক্ষিণে কলাতলী হ্যাচারী । এখান থেকে বছরে হাজার কোটি টাকা আয় হয়।

প্যাগোড়া (জাদী): ১৭৯০ সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায় এটি নির্মাণ করে। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন বলে। কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় এ ধরনের প্যাগোডা দেখা যায়।

অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং: কক্সবাজার সদরে ছোট বড় মিলিয়ে ৭টিরও বেশী বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। আগ্গা মেধা ক্যাং ও মাহাসিংদোগীক্যাং সবচেয়ে বড়। এসবে স্থাপিত বৌদ্ধ মুর্তিগুলো দেখবার মতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও বিষু উৎসব এসব ক্যাং এ উদযাপন হয়।

নাজিরার টেক শুটকি মহাল : শহরের ১নং ওয়ার্ডস্থ নাজিরার টেক এলাকায় কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট গড়ে উঠেছে শুটকী রপ্তানী ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা। পুরো এলাকা জুড়ে বেশ শতাধিক শুটকী রপ্তানী ও প্রক্রিয়াজাতকরণ চাতাল (মাছা) রয়েছে। এখানে বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মৎসকে প্রাকৃতিক উপায়ে শুকানো হয়। স্থানটি নাজিরার টেক নামে ব্যাপক পরিচিত ।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র : শহরের পশ্চিম নতুন বাহারছড়াস্থ বাঁকখালী নদীর তীরে অবস্থিত উক্ত স্থানটির নাম বিএফডিসি ঘাট বা ফিশারীঘাট। বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত মৎস্য এখানেই নামানো হয়। এই ঘাট থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। বছরের সবদিনই এখানে থাকে জনকোলাহল। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান মৎস্য সরবরাহ দেয়া হয়। শহর থেকে রিক্সা যোগে গিয়ে যে কেউ পছন্দের কাচা মাছ কিনতেও পারেন।

বার্মিজ মার্কেট: রাখাইন রমনীদের পরিচালিত বিভিন্ন রকম হস্তশিল্প ও মনোহরী দ্রব্যাদির দোকান। পূর্ব বাজারঘাটা থেকে টেকপাড়া পর্যন্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে অসংখ্য বার্মিজ মার্কেট দেখতে পাবেন। প্রতি মঙ্গলবার কিন্তু এসব মার্কেট বন্ধ রাখে রাখাইনরা।

ঝিনুক মার্কেট: ঝিনুক শিল্পের রকমারি জিনিসপত্রের প্রধান বিক্রয় ও বিপনন কেন্দ্র। এর অবস্থান শহরের প্রধান সড়কে হোটেল হলিডের মোড়ের পশ্চিমে। এটি পুরাতন ঝিনুক মার্কে নামেও ব্যাপক পরিচিত। তবে বর্তমানে শহরের বাজারঘাটাসহ আরো কয়েকটি স্থানে ঝিনুক এর সামগ্রী বিক্রির দোকান রয়েছে।

বীচ-পার্ক মার্কেট : কক্সবাজার  সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা পরিষদের অর্থায়নে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে বীচ-পার্ক মার্কেট । এগুলো দেখতে ছাতার মতো দেখায়। এখানে পাবেন দেশী ও বিদেশী পণ্য সামগ্রী ও শামুক ঝিনুকের তৈরি বিলাসী সামগ্রী। মার্কেটগুলো পর্যটকদের কাছে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে।

এই সব স্থানগুলোতে যে কেউ রিক্সা, টমটম ও সিএনজিতে করে মনে মাধুরী মিশিয়ে ঘুরতে পারেন।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৭.০৪.২০১৬/২০:২১