২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৪৮

কাঁঠালিয়ায় জাতীয় পার্টির বেহাল দশা

কাঠালিয়া থেকে মোঃ আহছান উল্লাহ খান: ঝালকঠির কাঠালিয়া উপজেলায় মহাজোটের শরীক ও প্রধান বিরোধি দল জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয় নেই বিগত একযুগ ধরে। সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচিই পালন করতে দেখা যাচেছ না।

বিপূল সংখ্যক নেতা-কর্মী সমর্থক ও উপজেলা পরিষদ স্থাপনসহ গ্রামান্নোয়নের রূপকার দাবিদার এরশাদ প্রিয় অগনিত অন্ধ ভোটার থাকা সত্বেও কাঠালিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির এ বেহাল দশার নেপথ্যে রয়েছে ঘরের শত্রু বিবিশনের ইতিহাস।

জতীয় পার্টির এক সময়ের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিভাজন হয়ে জেপি নামে নতুন দল গঠন করে ও সাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৯৯৬ সনের অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১(কাঠালিয়া-রাজাপুর) আসন থেকে নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী হন। মূলত এরশাদ সরকারের আমলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দীর্ঘ দিন মন্ত্রিত্বে থাকায় ভান্ডারিয়া ও কাঠালিয়ায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। ভোটাররা প্রতীকে নয়, কাজের মূল্যায়ন করেই ভোট দিয়েছিল তাকে।  দলের এ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে জেলা ও কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ না করা, যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়াসহ দীর্ঘ বছর ধরে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাপার কোন সম্মেলন না হওয়ায় দলের অবস্থান যা হওয়ার তা-ই ঘটেছে এতদিনে। এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পপতি মিয়া মাসুদ জাকারিয়ার মৃত্যুর পর অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে কাঠালিয়া-রাজাপুরের জাপা।

তবে  ২০১৪ সনের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় ঝালকাঠি-১(কাঠালিয়া-রাজাপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৗকা) বর্তমান এমপি বজলুল হক হারুনের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন জাতীয় পার্টির মনোনীত (লাঙ্গল) কাঠালিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ নাসির উদ্দীন। এ নির্বাচনে এখানকার ভোটারা নৌকা ও লাঙ্গলে দু‘ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হারানো যৌবন ফিরে পায় জাতীয় পাটি এবং দৃঢ় হয় দলের অবস্থান।

এদিকে দলের চেইন অফ কমান্ড রক্ষা না করা ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিসহ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কাঠালিয়া উপজেলা জাপা কমিটি ভেঙ্গে এ বছরের মার্চে জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা উত্তর জাতীয় মহিলা

পার্টির সভাপতি ডাঃ সেলিনা খানকে আহায়ক, মিয়া মো. জহিরুল ইসলাম নাসির সদস্য সচিব ও শিল্পপতি এবিএম হুমায়ুন কবিরসহ পাঁচজনকে যুগ্ম আহাবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেয় জেলা কমিটি। গঠিত এ কমিটির আহবায়ক, সদস্য সচিব ও একাধিক যুগ্ম আহবায়ক ঢাকায় অবস্থান করায় বর্তমানে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে স্থাবির অবস্থা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের কার্যক্রম কিছুটা স্লো গতিতে চলছে দাবি করে কাঠালিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ডাঃ সেলিনা খান বলেন, আহবায়ক কমিটি ইতোমধ্যে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে কমিটি গঠনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছে। দু’এক সপ্তাহের মধ্যে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছবো।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৭.০৪.২০১৬/১৯:১৪