১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:১৬

আত্মসমর্পণ করেছেন দুই জলদস্যু বাহিনীর ২৫ সদস্য

পটুয়াখালীর শিল্পকলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন দুই বাহিনীর ২৫ সদস্য। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও জমা দিয়েছেন তারা।

শনিবার ১১টার দিকে বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের আলিফ ও কবিরাজ বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করেছেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বাংলাদেশের জলসীমা ও বঙ্গোপসাগর জলদস্যু মুক্ত করতে বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর। তার দিকনির্দেশনায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় একাধিক জলদস্যু বাহিনীর সদস্যরা র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে এবং তাদের পুনর্বাসন করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ছাড়া যেসব জলদস্যু এখনো সমুদ্র সীমায় সাধারণ জেলেদের ওপরে আক্রমণ করছে তাদেরও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. আমরাম হোসেন, কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বসির উদ্দিন আহমেদ, কলাপাড়া চার আসনের সাংসদ আলহাজ মাহবুবুর রহমান তালুকদার, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজা খান মোশারফ হোসেন, জেলা প্রশাসক একেএম শামীমুল হক ছিদ্দিকী, পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান প্রমুখ।

আলিফ বাহিনীর সদস্যরা হলেন, আলিফ বাহিনীর প্রধান  আলিফ মোল্যা ওরফে দয়াল(৪২), রেজাউল শেখ ওরফে ছোট (২৮),  সফিনুর রহমান সফি (২০),  আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে আব্দুলা (৪০), হজরত আলী বরকন্দাজ ওরফে জামাই গুটি (৩৮), শাহিনুর আলম ওরফে শাহীন(২৯), জমির আলী জমু (৪৬), আল আমীন মোল্লা (৩৫), তাইজেল ওরফে বড় ভাই (২৭), সিরাজুল ইসলাম ওরফে সুমন (৪১), আলমগীর গাজী (২৬), কামাল শেখ (৩৮), হোসেন আলী ওরফে ভাগ্নে (২৮), সেলিম মোড়ল (৩৯), হজরত আলী গাইন ওরফে ওরফে আঙ্গুল কাটা হজরত (৩৯), পিয়ার আলী (৩৭), লিটন বিশ্বাস ওরফে দেওয়ান (৩২), হাবিবুর রহমান ওরফে বাছা (২৭) ও এনামুল গাজী ওরফে এনা (৩৫)। এদের বাড়ি খুলনা, মুন্সিগঞ্জ ও বাঘেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায়।

কবিরাজ বাহিনীর সদস্যরা হলেন, ইউনুচ আলী শেখ ওরফে কবিরাজ (৩০), নাজিম শেখ (৩৮), আলতাব উদ্দিন ফকির (৩৩), আবু শেখ (৪৬), সেলিম হাওলাদার (৩০) ও আশরাফ হোসেন ওরফে রাজু (৩৭)। এদের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এ সময় আত্মসর্মপণকারীরা র‌্যাবের কাছে ১০টি এক নালা বন্দুক, সাতটি বিদেশি দোনালা বন্দুক, চারটি ২ বোর বিদেশি এয়ার রাইফেল, ছয়টি ওয়ান শুটারগান এবং চারটি কাটা রাইফেল ও ১ হাজার ১১০ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন।

র‌্যাব জানায়, ১৯৯৭ সাল থেকে আলিফ মোল্লা একটি দল তৈরি করে বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুতা চালিয়ে আসছে। ২০১২ সাল থেকে ইউনুছ আলী ওরফে কবিরাজ একটি জলদস্যু বাহিনী তৈরি করে বঙ্গোপসাগরের জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের সর্বশান্ত করেছেন।

কিউএনবি/রিয়াদ/২৯শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং/বিকাল ৪:০৯