২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১৭

বৈসু-সাংগ্রাইং-বিজু-বিষু-বিহু’কে ঘিরে খাগড়াছড়িতে উৎসবের আমেজ

খাগড়াছড়ি থেকে চাইথোয়াই মারমা: পাহাড়ে পাহাড়ে বৈসু-সাংগ্রাইং-বিজু (বৈসাবি)-বিষু-বিহু’কে ঘিরে পাড়ায় মহল্লায় এখন চলছে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় উৎসবের আমেজ।

পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি বা আদিবাসীর ঐতিহ্যবাহী সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবি বৈসু-সাংগ্রাই-বিজু ও বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) প্রতিবছর ন্যায় এ বছরও পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে খাগড়াছড়ি পাশাপাশি অন্য তিন জেলা রাংগামাটি, বান্দরবান ও কক্্রবাজার। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সামাজিক উৎসবের আয়োজন করছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ১১ই এপ্রিল ২০১৬খ্রিঃ সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি ও শুভ বাংলা নববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে মারমা উন্নযন সংসদ ও মারমা সংগঠন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞলিক শাখা’র পৃথক পৃথক ভাবে বিভিন্ন কর্মসুচী গ্রহন করেছে। আগামী ১৪এপ্রিল থেকে মূল উৎসব শুরু হবে। তবে একদিন আগে এবার মারমা ও রাখাইন আদিবাসী সম্প্রাদায়ে ১৩ই এপ্রিল মূল ধর্মীয় উৎসব পালন করবে ।

০৭এপ্রিল হতে ১০এপ্রিল ২০১৬খ্রি: পর্যন্ত বৈসু-সাংগ্রাইং-বিজু(বৈসাবি) খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট উপ-পচিালক সুখময় চাকমার ৪দিন ব্যাপী আয়োজন করেছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ২৯৮নং আসনে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার স ম মাহবুব-উল-আলম, পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষœ চন্দ্র চাকমা, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলী ।

খাগড়াছড়ি ৯টি উপজেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙ্গালী সম্প্রদায় সম্মিলিত ভাবে পাহাড়ে বর্ষবরণ করার প্রস্তুতি গ্রহন করেছে। যেন মনে হয় বৈসাবির আমেজে পাহাড় এখন নতুন ভাবে সেজে উঠেছে। গত বুধবার বিকেলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কক্ষে যৌথভাবে সকল জনগোষ্টির সম্মলিত প্রস্তুতি সভায় পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) এটিএম কাওছার মোল্লা, পুলিশ সুপার মোঃ মজিদ আলী, পাজেপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান, নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার, উপজেলা চেয়াম্যান চন্চুমনি চাকমা, প্রেস ক্লাবে’র সভাপতি জীতেন বড়–য়াসহ বিভিন্ন এলাকার গন্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। ১লা এপ্রিল থেকে মাস ব্যাপী খাগড়াছড়ি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কমিটি’র উদ্যোগে আদিবাসীদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা ব্যাপক আয়োজন ছিল চোখে পড়ারমত। মারমাদের সামাজিক সংগঠন মারমা উন্নয়ন সংসদ ও ১২এপ্রিল থেকে ৪দিন ব্যাপী মারমাদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলী উৎসবসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করেছে। তাছাড়া প্রত্যেক আদিবাসী গ্রামে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ক্লাব ও সমিতি’র উদ্যোগে বিভিন্ন এতিহ্যবাহী খেলাসহ জাতীয় খেলায়ও আয়োজন করে উৎসবকে আরো আনন্দময় করে তোলার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহন করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরে পানখাইয়া পাড়া, গোলাবাড়ী, রাজ্যমনি পাড়া, আপার পেরাছড়া, খাগড়াপুর, আড়াই মাইল, মহাজন পাড়া, খবংপড়িয়া, নারানখাইয়া, ঠাকুরছড়া, পেরাছড়াসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ী পল্লীগুলোতে বৈসাবি উৎসব পালনের জন্য চাক্মা, মারমা, ত্রিপুরা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক প্রস্তুতি ও তাদের কেনাকাটা শুরু করেছে। প্রতিটি গ্রামে আদিবাসীদের অথিতিয়তা আপ্যায়ন ও খেলাধূলা আয়োজন চলছে। প্রতি বছরের মত এবারও জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাদের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সাংগ্রাই পালনের সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জেলার সর্ববৃহৎ প্রাচীনতম মন্দির য়ংড বৌদ্ধ বিহার, ধর্মপুর বন বিহার, পানখাইয়া পাড়া ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহার ও পালিটোল বৌদ্ধ বিহারসহ অন্যান্য বিহারে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এ উৎসবকে গিরে হাট-বাজারে প্রচুর কেনাকাটা ধুম পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চাকুরীজীবি ও স্কুল,কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি ছাত্র/ছাত্রীরা নিজ গ্রামে মা-বাবা,আতœীয়-স্বজনদের সাথে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগী করতে ছুটে আসছে।

খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মজিদ আলী বলেন, পাহাড়ে বর্ষ বরণ উৎসবকে প্রানবন্ত করার জন্য পুলিশ প্রশাসন নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পাহাড়ীদের এই উৎসব এই বছরও জাঁকজমকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে।

আদিবাসীদের বৈচিত্রময় আপ্যায়নতার তিনটি দিন: আদিবাসীদের প্রধান অন্যতম উৎসব বৈসাবি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবে যেমন ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে তেমনি উৎসবে তিনটি দিনের নামও আলাদা। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাইং আর চাকমার বিজু এই তিন ভিন্ন ভিন্ন চেতনার উৎসবের নামের আদ্যক্ষর নিয়ে বৈসাবি। যেন একই আলো, একই আবেদন, একই চিন্তা চেতনায় উদ্দীপ্ত এক অনুষ্ঠানে যোগ হল বাঙ্গালীদের(বড়–য়া হিন্দু মুসলিম) পহেলা বৈশাখ বর্ষবরণ ভুলে নাই দাওয়াত ও শুভেচ্ছা। শহর থেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলে জীর্ণ কুটির পর্যন্ত প্রতিটি আদিবাসীদের মানুষের ঘরে ঘরে কিছুটা আতংকের স্বস্তি পেলে বর্ষ বরন ও বর্ষ বিদায় উৎসবের আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে।

উৎসবে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের কিছু বিশেষ আকর্ষনীয় অনুষ্ঠান থাকে। এরমধ্যে চাক্মাকে বিজু নৃত্য, ত্রিপুরাদের গরাইয়া নৃত্য ও মারমাদের  ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব বা পানি খেলা রয়েছে। তবে একমাত্র মারমাদের পানি খেলা ছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায় আর তেমন ভাবে  এই সব অনুষ্ঠান আয়োজন করে না। অনেক সময় কিছু এলাকায়  এই সব উৎসবের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব: মারমারা সাংগ্রাই ১ম দিনকে পেইংছুয়ে(১২ এপ্রিল)-২য় দিনকে আকেই মুল সাংগ্রাই(১৩ এপ্রিল) ৩য় দিনকে(১৪ এপ্রিল)আক্যে ও ৪র্থ দিনে-আপ্যেইং(১৫ এপ্রিল) আতাদা হিসেবে পালন করে পুরানো বছরকে মুছে ফেলে নতুন বছর গ্রহণের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী পানীয় উৎসব বা জলকেলী উৎসবের মাধ্যমে তারা উঠতি বয়সী যুবক-যুবতীদের একে অপরকে বর্ষ বরণ ও বিদায় বৃষ্টিতে সিক্ত করে। সাংগ্রাই প্রধান উৎসবে কেন্দ্রস্থল মন্দির বা ক্যায়াং ঘরে প্রথম দিনে ভালভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় মেতে উঠে। দায়ক-দায়িকারা টানা তিনদিন অবস্থান নিয়ে দীক্ষায় অভিভূত হয়ে বুদ্ধ মূর্তির সামনে ফুল রেখে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রনাম করে। পাড়ার লোকজন ক্যায়াং ঘরে গুরু ভিক্ষু, শ্রমন, সাধু-সাধুমাদের উদ্দেশ্যে ছোয়াইং প্রদান করে। চন্দনের পানি, দুধ ও ডাবের পানি দিয়ে বুদ্দ মূর্তিকে স্নান করানোর মধ্য দিয়ে সূচনা হয় সাংগ্রাই এর নতুন বছর । ঐ দিন তরুণ-তরুণীরা জলবর্তী পাত্র দিয়ে দলে দলে এসে সাংগ্রাইংতে মিলেমিশে জলকেলি বা পানীয় খেলাতে মেতে উঠে। ভাইবোন সকলেই এসে একত্রে আনন্দ করে কুস্তি খেলা, নৌকাবাইচ, খৈঞাং খেলাসহ বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। অনেক এলাকায় দল বেঁধে বুদ্ধ মূর্তি গুলোকে গোসল করানো হয়। এরপর সারাদিন প্রস্তুতি চলে পরবর্তী দিন বা উৎসবের মূল দিনের খানাপিনা আয়োজন। উৎসবের ২য় দিনে প্রত্যেকের বাড়ীতে নানা মূখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। এতে ৩০-৩৭ বা তার বেশী আনাসপাতি দিয়ে তৈরী পাচন এবং পানীয় পরিবেশন করা হয়। নানা বয়সী লোকজন সারাদিন দল বেঁধে হৈ-হুল্লা(আনন্দ) আওয়াজ করে ঘুরে বেড়ায়।

চাকমাদের বিজু উৎসব:  পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য আদিবাসীদের তুলনায় চাক্মারা খুব ফূর্তিবাস জাতি। চাক্মারা ১ম দিনে ফুল বিজু, মুল বিজু ও গোজ্যেপোজ্যে উৎসব পালন করে থাকে। উৎসবের প্রথম দিনে ঘরবাড়ী ও আঙ্গিনা পরিস্কার করা ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এই দিন পাহাড়ী ছড়া, ঝর্ণা বা নদীতে ফুল ভাসিয়ে দিয়ে মা গঙ্গাকে পূজা করে গোসল করা হয়। খাগড়াছড়িতে ‘সর্বজনীন বৈসাবি উদ্যাপন কমিটি’ গঠন করে এর উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি (বৈসু-সাংগ্রাই-বিঝু)’ সমাগত। এ উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কার্বারী এসোসিয়েশনের সভাপতি রণিক ত্রিপুরাকে আহ্বায়ক ও সমাজকর্মী তৃপ্তিময় চাকমাকে সদস্য সচিব করে ২৩সদস্যের ‘সর্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ বিশিষ্ট মুরুব্বীদের নিয়ে ১৭সদস্যে একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে। কমিটির উদ্যোগে বৈসাবি উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ গুলোর মধ্যে রয়েছে-১২এপ্রিল ২০১৬, মঙ্গলবার সকাল ৬-৭টায় চেঙ্গী নদীতে(চেঙ্গী ব্রীজ এলাকায়) ফুল দেয়া/ফুল ভাসানো হবে। একই দিন সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও সন্ধ্যায় শান্তি ও মঙ্গল কামনায় গ্রামে গ্রামে ফানুস উত্তোলন করা হবে। র‌্যালিটি মধুপুর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা পরিষদ মাঠে শেষ হবে। ১৪ এপ্রিল ২০১৬, বৃহস্পতিবার বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদরের মহাজন পাড়ায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হবে। বৈসাবি উৎসব সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব তৃপ্তিময় চাকমার স্বাক্ষরিত পক্ষ থেকে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এই ছাড়াও পাড়ার যুবক যুবতীরা নদী থেকে পানি তুলে প্রবীণদের গোসল করিলে আশীর্বাদ নেয়। চাক্মাদের একটা কথা প্রচলন আছে যে ব্যক্তি কমপক্ষে দশটি বাড়ীতে বিজু খাবে না, সে পরবর্তীতে জনমে শুকর হয়ে জন্মাবে। ৩য় দিনে দল বেঁধে মন্দিরে গিয়ে নতুন বছরে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি পালন করা হয়। এই দিন অনেকে পাড়ার বয়স্ক মুরব্বীদের বাড়ীতে ডেকে ভাল কিছু খাবার দেন। আর অনেকের উৎসবের তিনদিন মন্দির, বাড়ীর আঙ্গীনা,  নদীর ঘাট, সবুজ গাছের নীচে এবং গোয়াল ঘরে বিভিন্ন দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে মোমবাতি জ্বালান।

ত্রিপুরাদের বৈসু: ত্রিপুরাদের বৈসুক সাধারণত সামাজিক উৎসব। ত্রিপুরারা বাংলা নববর্ষের শেষ দিনটিকে বৈসুমা বা বৈসুকমা, তার আগের দিনটিকে হারি বৈসু এবং নববর্ষ প্রথম দিনটিকে আতাডাক বলে। হরি বৈসুককের দিন তারা বিভিন্ন ধরনের ফুল দিয়ে ঘর সাজায়, গরু, মহিষ, ছাগলসহ গৃহপালিত পশুদের খুব ভোরে ঘর থেকে ছেড়ে দেয়। ছেলে-মেয়েরা নতুন কাপড় পড়ে এই ঘর থেকে ঐ ঘরে ঘুরে বেড়াই। ত্রিপুরারা তাদের বৈসুমা দিনে তাদের বাড়িতে অতিথিদের মদ, পিঠা, পাচন ও দিয়ে আপায়ন করে ঐ দিন ত্রিপুরা ছেলে-মেয়েরা নুনছড়ি দেবতা পুকুর বা নদী থেকে জল এনে তাদের নানা-নানী, দাদা-দাদীসহ স্থানীয় গুরুজনের স্নান করে তাদের কাছে আর্শীবাদ গ্রহণ করে। বৈসু সময় ত্রিপুরারা গরাইয়া নাচে শিল্পিরা পাহাড়ী পল্লীঘরে ঐতির্য্যবাহী নিত্য পরিবেশন করে।

বৈসাবির বর্ষ বরণের দিনগুলোতে ক্ষুদ্র জাতি উৎসবের মাধ্যমে তাদের কৃষ্টি,সংস্কৃতি ধারণ করে ভবিষ্যত প্রজুকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। কাজের  ব্যস্ততার আড়ালে সুখ দুঃখ, গ্লানি এই দেশের মাটি উর্বর হোক, ফুলে ফলে ভরে উঠুক শস্য ক্ষেত, পরিমিত বৃষ্টি জল-হাওয়া বর্ষিত হোক, প্রবাহিত হোক এই দেশের মাটিতে বসবাসকারী সব সকল জনগোষ্ঠি ও প্রাণীকূল সমান অধিকারে বেঁচে থাকুক এই প্রার্থনার  মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের নববর্ষের বর্ণাঢ্য আয়োজন বৈসাবি শুরু ও ইতিবৃত্ত মংগলময় যেন টানা হয়।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৬.০৪.২০১৬/২২:০৫