২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:০৭

এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা লিখছেন বই দেখে, পাহারায় কেন্দ্র সচিব

ঝালকাঠি থেকে মোঃ আমিনুল ইসলাম: পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব বাহিরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন। কেন্দ্রের ২নম্বর কক্ষের মধ্যে শিক্ষক দাঁড়িয়ে। শিক্ষকের পাশে বসেই বেঞ্চের ওপর বইয়ের আস্ত পৃষ্ঠা। সেটা দেখে দেখেই পরীক্ষার খাতায় লিখেছেন এক পরীক্ষার্থী। অধিকাংশ কক্ষের বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর চিত্রই এটি।

একটু সামনে সাত নম্বর কক্ষে এক শিক্ষক প্রশ্নের উত্তর ব্লাকবোর্ডে লিখে দিচ্ছেন আর শিক্ষার্থীরা ব্লাকবোর্ড দেখে খাতায় লিখছেন। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখার চূড়ান্ত পরীক্ষায় গত মঙ্গলবার এভাবেই দেখা গেল নকলের মহোৎসব। আর এই নকল সহায়তা করছেন খোদ শিক্ষকরা। আর হল সচিব হল পরিদর্শনে ম্যাজিষ্ট্রেট বা সাংবাদিক আসার সতর্ক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন হলে হলে।

সরেজমিনে জানা গেছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখার ৪টি কলেজের ২৫৭জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রশ্ন দেয়ার পর পরীক্ষা শুরুর প্রথম ১০মিনিট শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের বই দেখে উত্তরপত্রের কাগজ কেটে নেয়ার জন্য সময় দেন। পরবর্তীতের ওই টুকরো কাগজ ছাড়া সকল বই ও নোটপত্র বাইরে বের করে আনেন শিক্ষক ও কর্মচারিরা। এরপর শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে থাকেন আর শিক্ষার্থীরা নকল দেখে খাতায় লিখছেন। যে প্রশ্নের উত্তর একটু খটকা সেটা ব্লাকবোর্ডে লিখে দেন শিক্ষকরা।
Rajapur Photo-01
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. আল-আমিন হোসেন বসে থাকেন লাইব্রেরিতে। পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম পরীক্ষার পুরো তিনঘন্টা সময় বারান্দায় পাহারার দায়িত্বে থাকেন।

নকলের মহোৎসবের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসময় সাংবাদিকদের দেখে কেন্দ্র সচিব দৌঁড়ে কক্ষে কক্ষে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের সাবধান করে দিচ্ছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা নকল লুকানোর চেষ্টা করছেন। ব্লাকবোর্ডে লেখার ছবি তুলতে গেলে শিক্ষকরা কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এসময় কেন্দ্র সচিবসহ কয়েকজন শিক্ষক সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে নকল করতে দেওয়ার জন্য নেন কলেজের শিক্ষকরা। তারাই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সাথে অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে নকল সরবরাহ করেন। কোন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া না গেলে, তা ব্লাকবোর্ডে লিখে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে আদাখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম বলেন, ‘পরীক্ষার হলে যা কিছু হতে পারে সেটা সাংবাদিকদের দেখার বিষয় না। পরীক্ষা হলে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারেননা। পরীক্ষার্থীদের আমরা একটু সুযোগ দেই তবে সেটা অর্থের বিনিময়ে নয়। আমি বারান্দায় তিন ঘন্টা পরীক্ষা দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি অন্য কোন কারনে নয়।’

কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-আমিন হোসেন বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের। এখানে দুর্বল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে, বোঝেনইতো।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষায় নকলের কোন সুযোগ নেই। একটু দূরে হওয়ায় ওই কেন্দ্রে সব সময় আমি যেতে পারিনা। তবে নকলের এই ধরনের অভিযোগ মানা যায়না। নকলের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৬.০৪.২০১৬/২০:৩৩