২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:৫৭

কুড়িগ্রামে আ’লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবীতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

কুড়িগ্রাম থেকে মমিনুল ইসলাম বাবু: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কেন্দ্র ঘোষিত মনোনিত প্রার্থী আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর মনোনয়ন বাতিল করে তৃণমুলের নির্বাচিত জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ানুল হক দুলালের মনোনয়নের দাবীতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।

আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মনোনয়ন বাতিল করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। ফলে রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়ক পথে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দু’ ঘন্টা সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে।

এর আগে গত  মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে একই দাবিতে দু’ ঘন্টা রাস্তা অবারোধ কর্মসূচি পালন করেন।
তৃণমুলের মতামত উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড এই মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে কাঠালবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। আন্দোলনকারীরা জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাঁঠালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর মনোনয়ন বাতিল করা না হলে গণ পদত্যাগসহ ও লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েক শ নেতা-কর্মী গাছের গুড়ি ফেলে কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়ক অবরোধ করে। এ সময় ওই সড়ককে দুর ও স্বল্প পাল্লার সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় কুড়িগ্রাম জেলার সাথে গোটা দেশের যোগাযোগ।

এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক আইয়ুব আলী, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুবলীগের আহবায়ক মোস্তফা কামাল, নুর আলম লাল, জেলা ছাত্রলীগের নেতা তাজুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আকবর আলী প্রমুখ।  সমাবেশে দলের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, জেলা নেতাদের উপস্থিতেতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় ভোটাভোটির মাধ্যমে  কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নির্বাচন করা হয় জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রেদোয়ানুল হক দুলালকে।

মোট ৬৫টি কাউন্সিলরের মধ্যে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রেদোয়ানুল হক দুলাল ৪৯ ভোট পান। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাক্ষর দিয়ে একক প্রার্থী হিসেবে তার নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বর্তমান চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মঞ্জু তৃণমুলের প্রার্থীতার আবেদন করেননি এবং ভোটে অংশ নেননি। পরে তিনি কেন্দ্রে তৎবির করে মনোনয়ন বাগিয়ে আনেন। এখবর ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তৃণমুলের নেতাকর্মীরা মতামত দিয়ে প্রার্থী ঠিক করেছেন। অথচ যার জনপ্রিয়তা নেই, তাকেই দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাই প্রার্থী বদল না করলে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হবো’। শুধু তাই নয় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মনোনয়ন বাতিল করা না হলে বৃহত্তর কর্মসুচি ঘোষনা করা হবে বৃহস্পতিবার।

কুইক নিউজ বিডি.কম/এএম/০৬.০৪.২০১৬/১৯:৪৭