২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১২

পটুয়াখালীতে বিএনপির সভা কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারী

ডেস্কনিউজঃ পটুয়াখালীতে বিএনপির বিবাদমান দুইটি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা ২২ এপ্রিল, শনিবার একই স্থানে প্রতিনিধি সভা আহবান করায় স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসনের একটি বার্তায় ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী শহরের সার্কিট হাউজ সংলগ্ন শেরেবাংলা পাঠাগার ও তার আসপাশের এলাকায় ২২ এপ্রিল শনিবার সকাল ৬ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করে মাইকিং করে ওই এলাকায় সভা সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়।

জানা গেছে, ২২ এপ্রিল সকালে বিএনপির কেন্দ্রয়ি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কমিটির সভাপতি  সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পটুয়াখালীর নিজ বাসভবনের সামনে বটতলায়  ছাত্র সমাবেশের অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগীতা চেয়ে পটুয়াখালী জেলা  প্রশাসকের কাছে  গত ১৯ এপ্রিল লিখিত আবেদন করেন পটুয়াখালী জেলা  ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিন বিহারী।
এদিকে একই দিনে যুব সমাবেশ অনুষ্ঠান আয়োজন করার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগীতা চেয়ে গত ১৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের  কাছে  লিখিত আবেদন করেন পটুয়াখালী যুব দলের আহবায়ক এ্যাড. রুহুল আমীন রেজা।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির পটুয়াখালী জেলা  শাখার উদ্দ্যোগে  ২২ এপ্রিল সকালে স্থানীয় শের-ই-বাংলা পাঠাগারে প্রতিনিধি সভা করা হবে এই মর্মে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কাছে সার্বিক সহযোগীতা  চেয়ে গত ১৯ এপ্রিল জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন খান একটি আবেদন করেন । ওই আবেদন পত্রে বিএনপির  স্থায়ী কমিটির  সদস্য জমীর উদ্দিন  সরকার, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর (অব) হাফিজ, গায়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নেতা শাহাদাৎ হোসেন  মৃধা, আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, সাবেক এমপি শাহজাহান  খান, সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, সাবেক পৌর মেয়র  বিএনপির নেতা মোস্তাক  আহমেদ পিনু , সাবেক  সাধারন  সম্পাদক শুহাংশু সরকার কুট্টিসহ অন্তত  বিশ জন বিএনপির নেতার নাম উল্ল্যেখ করা হয়েছে। ওই আবেদন পত্রে জেলা বিএনপির সাবেক নেতা এবং জেলা  বিএনপির বিদ্রোহীদের নাম উল্ল্যেখ  করা হয়েছে। অপরদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সুরাইয়া ভবন থেকে শের-ই-বাংলা  পাঠাগার মাত্র দুইশ  গজ দূরত্ব হবে। ফলে ২২  এপ্রিল পটুয়াখালী জেলা  বিএনপির নেতা-কর্মীদের আহবান  করা সভা-সমাবেশ সাংর্ঘষিক বলে জেলা প্রশাসনের কাছে  বিবেচিত হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা  ছাত্রদলের সভাপতি  গাজী  আসফাকুর  রহমান বিপ্লব জানান, আমরা স্থানীয় নেতাদের  নিয়ে বিএনপির  রাজনীতি করতে চাই। ঢাকায়  থাকা নেতাদের নিয়া আমরা রাজনীতি  করতে চাইনা। পটুয়াখালী  বিএনপির জেষ্ঠ্য নেতা মোঃ  শাহদাৎ হোসেন  মৃধা জানান, কেন্দ্রীয় নেতাদের  উদাসিনতার জন্য  পটুয়াখালী জেলা  বিএনপির আজ বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। ফলে বিএনপির কোন সভা-সমাবেশ হচ্ছেনা।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারন  সম্পাদক এমএ রব মিয়া জানান, আমি ২২ এপ্রিল বিএনপির সভা-সমাবেশ করার লক্ষ্যে র্নিধারিত ফি দিয়ে পটুয়াখালী শের-ই-বাংলা পাঠাগারটি বুকিং দিয়েছি। এখন  পর্যন্ত আমার নামেই  ওটা বুকিং রয়েছে। যা আমি জেলা  প্রশাসককে বলেছি। কিন্তু  তিনি আমলে না নিয়ে বিএনপির সভা সমাবেশ না করার কৌশল হিসাবে সরকারের প্রতিনিধি  হয়ে জেলা  প্রশাসন  ২২ এপ্রিল বিএনপির ডাকা সভাকে কেন্দ্র  করে ১৪৪ ধারা  জারী  করেছেন।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার রাতে উক্তস্থানে ১৪৪ ধারা জারী করেন। পটুয়াখালী জেলা  প্রশাসক একেএম শামীমূল হক  সিদ্দিকী  জানান, পটুয়াখালীতে বিএনপির বিবাদমান দুইটি গ্রুপই  একই  দিনে  একই স্থানে একই সময় সভা-সমাবেশ  আহবান  করেছে। যা সাংর্ঘষিক বলে মনে হয়েছে। তাই আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে  রাখতে সুরাইয়া ভবন সংলগ্ন বটতলা এবং শের-ই-বাংলা পাঠাগার এলাকায় ১৪৪ ধারা  জারী  করা হয়েছে।
এদিকে সদর থানা পুলিশ শহরের বিভিন œএলাকা থেকে যুবদল, ছাত্রদল সমর্থক ১০ জন কে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।

কিউএনবি/বিপুল/২২শে এপ্রিল,২০১৭ ইং/রাত ১২:২৪