১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৫১

জমজমাট হয়ে উঠেছে রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

এম.এ ওয়াদুদ মিয়া, শরীয়তপুরঃ জমজমাট হয়ে উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। রাতের অন্ধকার, আকাশের মেঘ আর বৃষ্টিকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে প্রার্থীরা ছুটে চলেছেন ভোটারদের বাড়িতে। শুধু তাই নয়, প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর এদিকে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির উঠান পর্যন্ত একই আলোচনা কে হচ্ছেন এবার রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ? আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ? নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী ?

যদিও রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। তারা সকলেই নিজের অবস্থান থেকে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে মোঃ মোক্তার হোসেন, বি.এন.পি’র পক্ষে জহির উদ্দিন তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান ঢালী।SAM_5264
বি.এন.পি’র পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেও আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দীতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ঢালীকে মনোনয়ন না দিয়ে এবার একজন নতুন মুখ, হেভী ওয়েট প্রার্থী মোক্তার হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যিনি সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাভানা আক্তারের স্বামী। বিধায় এলাকার পুরানো ভোটার সহ অনেক নতুন ভোটার তার দলে যোগ দিয়েছে।

এদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত হাবিবুর রহমান ঢালীকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় তার কর্মীরা মনক্ষুন্ন হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় হাবিবুর রহমান ঢালী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তার কর্মীরা নিজ উদ্যোগে মিছিল, সমাবেশ, জনসংযোগ অব্যাহত রাখেন এবং পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিলকরেন। এতে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোক্তার হোসেনের জনপ্রিয়তা একটু কমলেও পরবর্তীতে তিনি তা আবার গুছিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন তালুকদারের কর্মীরা ভিতরে ভিতরে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

রুদ্রকর ইউনিয়নের কিছু সাধারণ ভোটারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালী একজন ভাল মানুষ। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এলাকায় অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন। দলীয় ভাবে মনোনয়ন তারই পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি, মনোনয়ন দিয়েছে নতুন মুখ মোক্তার হোসেনকে। রাজনীতিবিদ হিসেবে মোক্তার হোসেনেরও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। এলাকার ৭০ শতাংশ ভোটার নৌকার সমর্থক হলেও অনেক ভোটার স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালীর সাথে রয়েছে। যা আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মোক্তার হোসেনের জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে একটা বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালীর সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, দলের কাছে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নির্বাচন করবো না কিন্তু জনগনের চাপে পরে আজ আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে জনগন আমাকেই ভোট দিবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।

Mokter Pic 1

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মোক্তার হোসেনের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আসন্ন রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছি। গত নির্বাচনে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। দিয়েছে হাবিবুর রহমান ঢালীকে। আমি দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার পক্ষ হয়ে নির্বাচন করেছি। এবার আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তার উচিৎ এবার আমার পক্ষ হয়ে নির্বাচন করা। কিন্তু তিনি তা করছেন না। যাক সে কথা, জনগন আমাকে যদি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাহলে আমি প্রথমে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। এলাকার যে সকল অসমাপ্ত কাজ রয়েছে তা সমাপ্ত করার পাশাপাশি গরীব দুস্থ্য মহিলাদের পাশে দাড়াব।

 

 

সর্বপরি আমার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে পরিনত করবো।

তারিখ: ০৫-০৪-২০১৬/কুইকনিউজবিডি/রাকিব/ সময়:১৪:৪৪