২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০০

বান্দরবানে বুদ্ধমূর্তি স্নান

ডেস্কনিউজঃ বুদ্ধধর্মালম্বীদের সাংগ্রাইং উৎসবের ২য় দিনে বুদ্ধমূর্তি স্নান করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে শহরের কেন্দ্রীয় রাজগুরু বৌদ্ধ মন্দির থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মাথায় বৌদ্ধ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের করে।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার পর উজানীপাড়ার সাঙ্গু নদীর তীরে ধর্মদেশনা প্রধান করেন বান্দরবান রাজগুরু  বৌদ্ধ বিহারের প্রধান ভিক্ষু উ প ঞা জোত থের। এরপর শুরু হয় চন্দন মিশ্রিত পানি দিয়ে বুদ্ধমূর্তি স্নান। প্রবীণ ভিক্ষুদের সাথে নিয়ে ‘আসাং স্রা’র বুদ্ধ মূর্তির গায়ে পানি ঢেলে স্নান করান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং এমপি।

এরপর পরপরই বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের তরুন তরুনীরা বর্ষবরণ জলকেলী উৎসব শুরু হয়। এসময় জেলা প্রশাসক দীলিপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়সহ বৌদ্ধধর্মালম্বী শতশত তরুণ-তরুনী,নারী পুরুষ বুদ্ধমূর্তি গুলোকে স্নান করান। মারমা অনসৃত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৩৭৯ সক্রয় সালের প্রথম দিন হচ্ছে আজ। পুরোনো বছরের সব গ্রানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে আবাহনের লক্ষ্যে প্রথমে ‘আসাং স্রা’ বা জীবন্ত বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করানো হয়।

মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় বর্তমান মায়ানমারের আকিয়াব রাজ্যের কিয়কটো শহরে তাঁর একটি মূর্তি নির্মাণ করা হয়। পরে এই মূর্তির অংশ বিশেষ দিয়ে তৈরি অনেকগুলো মূর্তি বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। বোমাং রাজারা ১৮১৪ সালে একটি বান্দরবান নিয়ে এসে জেলা সদরের রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে অধিষ্ঠান করা হয়। সে বছর থেকেই এই বুদ্ধমূর্তিকে স্নান করানোর রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে। কাল শনি ও রবিবার দুই দিনব্যাপী সংগ্রাই উৎসবের মূল পর্ব জলকেলী। স্থানীয় রাজার মাঠে মারমা গোষ্ঠির পাশাপশি বাঙালী ও বিভিন্ন সম্প্রদায় এই উৎসবে মেতে উঠবে। ধর্ম দেশনা শ্রবণের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের এই উৎসবের ইতি টানা হবে।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকালে স্থানীয় রাজার মাঠে চলে রশি টানাটানি, বালক বালিকাদের মোরগ লড়াই, বলি খেলা। সকালে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষবরণ উদযাপন উপলক্ষ্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি  শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে বর্ষবরণের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এদিকে শুক্রবার বৌদ্ধমূর্তি  স্নানের পর সারা রাত চলবে পিঠা তৈরীর উৎসব। শনিবার বিকালে উৎসব উৎযাপন পরিষদের উদ্যাগে স্থানীয় রাজার মাঠে পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে  স্বাগত জানিয়ে মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব। একই সাথে চলবে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। রাতে মারমা শিল্পী গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে আবারো মৈত্রী পানি বর্ষন, সাংস্কৃতিক উনুষ্ঠান, র‌্যাফেল ড্র ও রাতে স্থানীয় ও মারমা শিল্পী গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান দেখতে শত শত পর্যটক বান্দরবানে ভিড় করে। চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন এই উৎসবকে বিঝু, মারমারা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসু বা বৈসুক বলে। পাহাড়ে এই উৎসবকে সম্মিলিতভাবে বৈসাবি বলে অবহিত করা হয়।

কুইকনিউজবিডি.কম/বিপুল/১৪ই এপ্রিল/২০১৭ ইং/রাত ১০:২৪